হাইড্রোজেন গাড়ি (Hydrogen Bus) নিয়ে বড় চমক দিতে চলেছে ভারত সরকার। কেউ হয়তো ভাবতেও পারেননি এমনটা ঘটবে বলে। ভারতে দূষণ কমাতে এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির প্রসারে সরকার ক্রমাগত নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, কেন্দ্রীয় সরকার ‘জাতীয় সবুজ হাইড্রোজেন মিশন’ (Green Hydrogen Mission) এর অধীনে হাইড্রোজেন চালিত যানবাহনের প্রসারের জন্য একটি প্রকল্প চালু করেছে। সরকার দেশজুড়ে ১২টি পাইলট প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। দেশজুড়ে ৭০টি হাইড্রোজেন চালিত যানবাহন চালানোর প্ল্যান করছে সরকার। 

দেশজুড়ে চলবে ৭০টি হাইড্রোজেন চালিত যানবাহন!

এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। তিনি জানিয়েছেন, বাস ও ট্রাকসহ ৭০টি হাইড্রোজেন চালিত যানবাহন বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। এছাড়াও ১৬টি হাইড্রোজেন চালিত রিফুয়েলিং স্টেশন ইনস্টল করা হবে বলে খবর। জাতীয় সবুজ হাইড্রোজেন মিশন ভারত সরকারের একটি প্রধান প্রকল্প। এর লক্ষ্য হলো ভারতকে সবুজ হাইড্রোজেনের উৎপাদন, ব্যবহার এবং রপ্তানির একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সবুজ হাইড্রোজেনকে একটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর ব্যবহার দূষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। সরকার পরিবহন খাতে এই প্রযুক্তি চালু করতে চায়।

কী কী নামবে রাস্তায়?

 ইতিমধ্যে দেশ পেয়েছে প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন। অন্যদিকে দিল্লি সহ বেশ কিছু জায়গায় ছুটছে হাইড্রোজেন বাস। তবে আগামী দিনে এই পরিসর আরও কিছুটা বৃদ্ধি করতে চলেছে সরকার বলে শোনা যাচ্ছে। ৭০টি হাইড্রোজেন চালিত যানবাহনের ২৭টি বাস, ৪৩টি ট্রাক ও ১৬টি হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশন থাকবে। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন চালিত যানবাহন (H₂-ICE)। খরচ সম্পর্কে বললে, সরকার এই সমস্ত প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪১০.৭৭ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছে এবং প্রায় ৪১.৫৮২ কোটি টাকা ইতিমধ্যে প্রদান করা হয়েছে।

কোন কোন রুটে চলবে?

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন’-এর আওতায় দেশে হাইড্রোজেনচালিত বাস ও ট্রাকের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হতে চলেছে। প্রথম পর্যায়ে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, ওড়িশা, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, কেরালা এবং মধ্যপ্রদেশের নির্বাচিত রুটে এই পরিষেবা চালু হবে। পরীক্ষামূলক রুটগুলির মধ্যে রয়েছে গ্রেটার নয়ডা–দিল্লি–আগ্রা, ভুবনেশ্বর–কোনার্ক–পুরী, আহমেদাবাদ–ভাদোদরা–সুরাত, জামনগর–আহমেদাবাদ, কান্ডলা–গান্ধীনগর, ভাদোদরা–অঙ্কলেশ্বর, সাহিবাবাদ–ফরিদাবাদ–দিল্লি, পুনে–মুম্বাই, ভাপি–নাসিক, জামশেদপুর–কলিঙ্গনগর, কোচি–কোঝিকোড় এবং বিনা–ভোপাল। এই উদ্যোগের লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব পরিবহণকে উৎসাহিত করা এবং কার্বন নির্গমন কমানো।