বিনোদনভিডিওসেরা খবর

‘২০ দিনে ওঁর জ্ঞান ফিরেছিল’, মৃত্যুর ৪ দিন পর প্রথমবার মুখ খুললেন ঐন্দ্রিলার চিকিৎসক

রোগী যদি ‘পজিটিভ’ ভাবনায় থাকেন তা হলে তার বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ওর মধ্যে সেই ‘পজিটিভ’। মানসিকতা ছিল। তাই ও ট্রু স্টার ও ট্রু ফাইটার। সম্প্রতি এমনটাই মন্তব্য করলেন ঐন্দ্রিলার দীর্ঘদিনের চিকিৎসক। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘মনের জোরে একটা মানুষ কী ভাবে বার বার মৃত্যুর মুখ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে এনেছে, তার সাক্ষী তো আমিই। কখনও বলতে হয়নি, ‘ফাইট, ঐন্দ্রিলা ফাইট’!

ঠিক এরকমই বক্তব্য ঐন্দ্রিলার দীর্ঘদিনের চিকিৎসকের। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের হয়ে কলম ধরে তিনি লিখেছেন, ‘মেয়েটার লড়াই করার ইচ্ছেকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। মেয়েটা বোধহয় রবীন্দ্রনাথকে আত্মস্থ করেছিল। ওই যে, ‘ভাল মন্দ যাহাই আসুক, সত্যেরে লও সহজে’— প্রতি বার সেই সত্যিটাকে নিয়েই ও লড়ে গিয়েছে। জয়ী হয়েছে। আবার হেরেছে। আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে লড়াইয়ের মাঠে।”

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ক্যানসার হলে অনেকে গোপন করতে চান। ও কিন্তু সেই পথে হাঁটেইনি। কেমোথেরাপি নেওয়ার পর চুল উঠে গিয়েছে। কোনও দিন পরচুল পরেনি। বাকি ক্যানসার রোগীদের উদ্বুদ্ধ করেছে।’ প্রসঙ্গত, সাল ২০১৫ তে ঐন্দ্রিলার যখন প্রথমবার ক্যান্সার হয় তখন থেকেই তিনি তাঁর চিকিৎসা করছেন।

তিনি জানান, সেইবার চিকিৎসার পর একেবারে সুস্থ হয়ে উঠেছিল ঐন্দ্রিলা। জীবন ফিরেছিল ছন্দে কিন্তু তারপর আবার মারণ রোগ থাবা বসায় ২০২১ সালে। ভেঙে পড়লেও লড়াই ছাড়েনি। দ্বিতীয়বারের অপারেশন এতটাই জটিল ছিল যে ঐন্দ্রিলা অপারেশন থিয়েটারের টেবিলেই মারা যেতে পারত। সেটাকে জয় করে ফিরলেও হেরে গেল তৃতীয়বারের মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কাছে।

তিনি জানান, শেষবার যখন ঐন্দ্রিলার ব্রেনে ব্লিডিং হয় তখন অস্ত্রোপচার করে রক্ত বের করা হয়। আশা প্রায় ছিলইনা, কিন্তু ঐন্দ্রিলা লড়াইটা চালিয়েই যাচ্ছিল। চিকিৎসকের কথায়, ‘স্ট্রোক হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। ২০ দিন ধরে সাংঘাতিক লড়াই করেছে মেয়েটা। কখনও চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছে। একটু ভাল হয়েছে। আবার অবনতি!’

ঐন্দ্রিলার মধ্যে প্রচন্ড পজিটিভ ভাবনা থাকায় ওর শরীর সাড়া দিলেও কাহিল হয়ে পড়ে ব্রেনে রক্তক্ষরণে। পর পর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট আর স্ট্রোকের কারণেই শেষ হয়ে গেল সে। তিনি বলেন, ক্যান্সারের কারণেই নাকি ঐন্দ্রিলার ব্রেনের ভেসেল ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। তৃতীয় বার রক্তক্ষরণ হয়। বায়োপ্সি রিপোর্টে দেখা যায়, ক্যানসার কোষ বাড়ছে। ২০ তম দিনে জ্ঞান ফিরলেও কথা বলতে পারেনি সে। এরপর আর পারলোনা মেয়েটা। আসলে সব ফাইটারকেই তো একটা সময় থামতে হয়।

Related Articles

Back to top button