সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: আসন্ন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে স্বনির্ভরতার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা অনন্যা দাস মহাপাত্র। শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম Anabacus এর সাফল্যের পর এবার তিনি নিজস্ব উদ্যোগে শুরু করলেন ‘Boutique-Ana’। আর এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটাই, ঘরে বসেই নারীদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। বলার বিষয়, দীর্ঘদিন ধরেই Anabacus এর মাধ্যমে অ্যাবাকাস শিক্ষার প্রশিক্ষণ দিয়ে বহু ছাত্র-ছাত্রী এবং মহিলাকে আত্মবিশ্বাসী গড়ে তুলেছিলেন অনন্যা দাস মহাপাত্র। আর সেই অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই এবার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার নতুন দিশা দেখাচ্ছে তাঁর নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘Boutique-Ana’।
নারীদের প্রতিভাকে ব্যবসায়িক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ অনন্যার
বলে রাখি, ‘Boutique-Ana’ মূলত এমন একটি উদ্যোগ, যেখানে গৃহবধূ বা স্বনির্ভর হতে আগ্রহী নারীরা নিজেদের সৃজনশীলতা এবং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। আর এই প্রকল্পের সবথেকে জনপ্রিয় মুখ মোনালিসা পট্টনায়ক। যিনি একজন গৃহবধূ হয়েও শাড়ি বিক্রির মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি এই উদ্যোগের মূল আত্মবিশ্বাসী প্রতীক হয়ে উঠেছেন তা বলা চলে। এমনকি তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন আরও বেশ কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন মধুমিতা কর, সুস্মিতা সাহু, প্রত্যুষা দাস, সুদীপ্তা সিংহ কর্মকার। সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তাঁরা নিজেদের সময়কে কাজে লাগিয়েই এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে তাঁদের এই উদ্যোগের পিছনে একটি সক্রিয় ফেসবুক পেজও হয়েছে। পেজটি শুরু হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ১৭ হাজারের বেশি ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। আর বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে পণ্যের প্রচার, গ্রাহকদের কাছে সরাসরি ডেলিভারি এই সমস্ত পরিষেবা চালু রয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ক্রেতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে তাঁদের এই প্ল্যাটফর্ম খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
কী বলছেন প্রতিষ্ঠাতা?
এ বিষয়ে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অনন্যা দাস মহাপাত্র বলেছেন, "Anabacus এর মাধ্যমে আমি দেখেছি প্রতিটি নারীর মধ্যেই অসাধারণ প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। শুধুমাত্র দরকার সঠিক সুযোগ আর বিশ্বাস। ‘Boutique-Ana’ সেই বিশ্বাসের জায়গা, যেখানে আমরা একে অপরের সঙ্গেই এগিয়ে যাচ্ছি।" এমনকি আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগে এই উদ্যোগ নারীদের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে কাজ করবে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। আর নারীরা কেবলমাত্র পরিবারের দায়িত্ব সামলান না, বরং সুযোগ পেলে নিজস্ব উদ্যোক্তা, স্রষ্টা বা নেতৃত্বদাতা হিসেবে সমাজের জায়গা তৈরি করে নিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ এই সংস্থা।
সম্পর্কিত খবর (Recent News)
মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
৩