অন্যান্যসেরা খবর

পুঁজি ছিল না হাতে, লোন নিয়েই স্বামী স্ত্রী শুরু করেন ব্যাম্বু হাউসের ব্যবসা, আজ কয়েক কোটি টাকার মালিক

জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ও ভালো উপার্জন করার জন্য অনেকেই নতুন কিছু কাজ করার কথা চিন্তা ভাবনা করে থাকেন। এক্ষেত্রে ব্যবসার মাধ্যমে এখন প্রচুর মানুষেরা জীবিকা নির্বাহ করেন। আর কঠোর পরিশ্রম ও বুদ্ধির জেরে ব্যবসা করে সফলতা পাওয়া যায় তার উদাহরণ তৈরি করল হায়দ্রাবাদের (Hyderabad) এই দম্পতি। ২০০৬ সালে তারা বিয়ে করেন। আর বিয়ের পরে নিজেদের বাড়িতে বাঁশের ফার্নিচার (Bamboo’s Furniture) দিয়ে সাজানোর ইচ্ছে ছিল ওই গৃহবধূর।

কারণ এর ফলে বাড়িতে যেমন দেশীয় সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় তেমনি এসব আসবাবপত্রগুলো মজবুত হয়। এই দম্পতি হলেন প্রশান্ত লিঙ্গম (Prasanta Lingam) ও তার স্ত্রী অরুণা লিঙ্গম Aruna Lingam)। সেই দোকানে গিয়ে অরুণার মাথায় আসে বাঁশের ব্যবসার কথা। এরপর এই দম্পতি তাদের এই নতুন ব্যবসার পরিকল্পনার কথা বাড়ির লোকেদের জানালেও সেখান থেকে কোন সম্মতি মেলেনি। সকলেই ব্যবসাকে বেকার ব্যবসা বলেছেন। কিন্তু এই দম্পতি হাল ছেড়ে দেননি। তারা এ ব্যবসা সম্পর্কে জানতে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে।

এরপর তারা জানতে পারে যে মার্কেটে এই ব্যবসার চাহিদা বেশি খুব বেশি এবং বাঁশের প্রোডাকশন ব্যবসায় সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়। এরপর তারা দিল্লীর আইআইটিতে যেখানে বেস্ট হাউসিং টেকনোলজির ওপর গবেষণা হয়। সেখান থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে ২০০৮ সালে নিজেদের ব্যবসা শুরু করেন। এক্ষেত্রে তাদের কাছে কোন পুঁজি না থাকায় ৬০ লক্ষ টাকা ঘর করেই তারা ব্যবসা শুরু করে। তবে শুরুতে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাদের।

কারণ বাঁশের তৈরি প্রোডাক্ট মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া খুব কঠিন কাজ ছিল। এত বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও তারা থেমে যাননি। বরং অন্ধপ্রদেশের গ্রামের লোক এবং আদিবাসীদের বাঁশের তৈরি জিনিসের উপর ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেন। এরপর তারা ভারতের দক্ষিণ-পূর্বে রাজ্যগুলো যেখানে বাঁশের ব্যবহার বেশি সেখানে বাঁশের বাড়িঘর তৈরি হোক করার জন্য ব্যবসা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের এই ব্যবসা বাড়তে থাকে। তারপর দুজনে মিলে বাসের অন্যান্য জিনিস তৈরি শুরু করেন।

যার মধ্যে রয়েছে, দুধের থলি, প্লাস্টিকের বোতল, টায়ার সমস্ত ইকোফ্রেন্ডলি জিনিস প্রস্তুত করেন তারা। এরপর তাদের বাম্বু হাউস কনফেডারেশন ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির সাপোর্ট পায়। এরা আবার গুগল কোম্পানির জন্য একটি হাট তৈরি করেন, যেটা অনেক প্রশংসা পেয়েছিল। এভাবেই ধীরে ধীরে তারা তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি করেছেন। এই ব্যবসার মাধ্যমে আজ ছাড়া কয়েক কোটি টাকার মালিক। এ ব্যবসা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না আর উপার্জন ও বেশ ভালো হয়।

Related Articles

Back to top button