অন্যান্যভারতসেরা খবর

প্রতিকূলতাকে জয় করে IAS অফিসার হলেন বাসচালকের কন্যা, মেয়ের রেজাল্ট শুনে অঝোরে কান্না বাবার

মনে যদি ইচ্ছে থাকে আর থাকে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার দৃঢ়তা, তাহলে হাজার প্রতিকূলতা সত্বেও এগিয়ে যাওয়া যায়। এরকমই নজীরবিহীন সাফল্যের উদাহরণ তৈরি করেছেন হরিয়ানার বাস চালকের মেয়ে প্রীতি হুডা। যেখানে অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী, সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে শুধু স্বপ্ন দেখেই ক্ষান্ত হননি তিনি। অধ্যাবসায়, মনের জোর এবং কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা নিজের স্বপ্নকে সত্যি করে দেখিয়েছেন প্রীতি। আজ তিনি দেশের একজন অন্যতম আইএএস।

হরিয়ানার বাহাদুরগড় নামক জায়গায় একটি অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রীতি। বাবা দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন অর্থাৎ ডিটিসির বাস ড্রাইভার। বাবা-মা ভেবেছিলেন স্কুল শেষ হলেই মেয়েকে পাত্রস্থ করবেন। কিন্তু নিজেকে আইএএস অফিসারের ইউনিফর্মে দেখা ছিলো প্রীতির স্বপ্ন। কিন্তু অভাবের এই সংসারে সবকিছু এতোটাও সহজ নয়।

স্কুল শেষ হলে শুরু হবে পাত্র দেখা। এই চিন্তা মাথায় আসতেই তার মনে হয় দ্বাদশ শ্রেণীতে ভালো ফল করলে বাবা নিশ্চয়ই বিয়ে দেওয়ার কথা ভাববেননা। যেই ভাবা সেই কাজ। এই তাগিদ থেকে পড়াশোনার সময় বাড়ালেন প্রীতি। রেজাল্ট বেরোলে দেখা গেলো ৮০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও এমন অভাবনীয় সাফল্য নাড়িয়ে দেয় বাবার মন। খরচ জোগাতে একটু কষ্ট হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলেন মেয়েকে।

হিন্দি নিয়ে দিল্লির লক্ষ্মীবাই কলেজে ভর্তি হলেন তিনি। স্নাতকের রেজাল্ট হলো দ্বাদশ পরীক্ষার চেয়েও ভালো। এরপর পছন্দের জেএনইউতে পড়ার সুযোগ পেলেন তিনি। সেখান থেকে এমফিল করার পর ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। পিএইচডিও শেষ করলেন জেএনইউ থেকেই। এরপর ২০১৭ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেন প্রীতি।

প্রথম বারেই সফলতা এসে ধরা দেয়নি। তবে হাল ছেড়ে না দিয়ে আরও জেদ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয়বারের জন্য ইউপিএসসিতে বসেন, মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হিন্দিকে। ৩০ মিনিটের ইন্টারভিউতে তাকে প্রায় ৩০ টি প্রশ্ন করা হয়েছিলো। এরমধ্যে ২৭টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে ২০১৭ সালের ইউপিএসসি-তে সর্বভারতীয় ২৮৮ তম র্্যাঙ্ক করেন প্রীতি।

একটি সাক্ষাৎকারে প্রীতি জানিয়েছেন যে, তিনি যখন তার বাবাকে এই সুখবর দেন তখন তিনি বাস চালাচ্ছিলেন। ফোনে বলেন, তিনি এখন আইএএস অফিসার। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর ফোনের ওপার থেকে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। টাকার অভাবে মেয়ের পড়া বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন, সেই মেয়ে আজ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে।

Related Articles

Back to top button