বিনোদনসেরা খবর

একাধিক ফ্লপ ছবি, ব্যর্থতা, মানসিক অবসাদে আত্মহত্যার পথ বাছেন দীপিকা! ফাঁস বলিউডের ‘মস্তানি’র জীবনের কাহিনী

দীপিকা পাড়ুকোন(Deepika Padukone) বলিউডের (Bollywood) প্রথম সারির নায়িকা তিনি। বর্তমানে তো শাহরুখ খানের সমান মূল্যের পারিশ্রমিক নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার। মানুষ হিসেবে কেমন তিনি? অভিনয় কি তার সব? ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন দীপিকা? টাকা,নাম, খ্যাতি, প্রতিপত্তিতে নিজেকে ডুবিয়ে রাখেন তিনি? এই প্রশ্নগুলো ভক্তদের মনে থেকেই যায়। আজকে এখানে দীপিকার জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই এর কাহিনী আপনাদের কাছে তুলে ধরব।

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অনেক স্ট্রাগল করার পর সফলতা এসেছে তার জীবনে। এখনো মাঝে মাঝেই মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে পড়েন তিনি। এত হেভিওয়েট অভিনেত্রী হয়েও তার ভয় হয় ভবিষ্যতে আদৌ তার জন্য কোন চরিত্রের অফার আসবে তো? জাতীয় স্তরের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় প্রকাশ পাড়ুকোনের বড় মেয়ে দীপিকা। ছোটবেলা থেকেই ব্যাডমিন্টন খেলায় তুখর তিনি ও তার বোন অনিশা। কিন্তু দশম শ্রেণী পাশ করার পরই ব্যাডমিন্টন কোট ছেড়ে রুপোলি পর্দায় পা বাড়ালেন তিনি।

প্রথম সারির বিজ্ঞাপন দিয়ে নজর কেড়েছিলেন। ক্লোজআপের বিজ্ঞাপনে তার পাজামা- টপ পরা মুখের হাসি, সরলতা ভালো লেগেছিল বলিউডের। এরপরে ২০০৬ সালে হিমেশ রেশমিয়ার মিউজিক ভিডিও ‘নাম হ্যায় তেরা’-য় সুযোগ পান তিনি। আর তারপরেই ২০০৭ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘ওম শান্তি ওম’-এ শান্তি চরিত্র। অভিনয়ের সম্পর্কে একটু জ্ঞান ছিল না তার। এত বাজে অভিনয় করতেন যে মাঝেমধ্যেই রেগে যেতেন পরিচালক ফারহা খান। প্রথম ছবি সাফল্যের পরের ছবি সুপার ফ্লপ।

‘বাচনা এ হাসিনো’ দীপিকা-রণবীরের জুটি কিন্তু সুপারহিট হয়। তাদের প্রেম নিয়ে তখন বেশামাল বলিউড। রণবীরের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন দীপিকা। বলিউডে পা রাখার সাথে সাথেই রণবীরকে নিজের সবচেয়ে কাছের ভাবতে শুরু করেন তিনি। টুকটুকে ফর্সা ত্বকে কালো অক্ষরে ‘আর কে’ লেখা ট্যাটু বানিয়ে ফেলেন তিনি। এরপরে নিজের অভিনয়কে আরো বেশি ধারালো করার জন্য অনুপম খেরের অভিনয়ের স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন দীপিকা। সেই সময় একদিকে প্রেম অন্যদিকে সিনেমা এই নিয়ে চলছিল তার জীবন। কিন্তু হঠাৎ করেই জীবনের মোড় অন্যদিকে বাঁক নেয়। ছেড়ে চলে যায় রণবীর কাপুর। এরপরই শুরু হয় তার জীবনে আর এক নতুন অধ্যায়।

টানা তিন মাস মানসিক দিক থেকে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন দীপিকা। তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে তাকে নাকি খাটের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে তার বাবা-মা। যাতে পালিয়ে গিয়ে আত্মহত্যার পথও না বাছেন। খাওয়া-ঘুম সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হতো দীপিকাকে। এদিকে দীপিকা সারাক্ষণ ধরে কেঁদে চলেছেন। অন্যদিকে মেয়ের আড়ালে চোখের জল ফেলছেন বাবা-মা। যখনই তিনি উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছেন ততবারই ভেঙে পড়েছেন। বলিউড ভেবেছিল দীপিকা হয়তো আর ফিরবেন না। কিন্তু না! তিনি উঠে দাঁড়িয়েছেন, মনের জোরে আবার ফিরে এসেছেন বলিউডে। তখন অবশ্য চোখের নিচে কালো দাগ, চেহারা আর আগের মতো জৌলুস নেই। তবুও জোর করে ভালো থাকার চেষ্টা করেছেন, জোর করে হেসেছেন বলি সুন্দরী।এরপরে ২০১৩ সালে একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ আর ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ ছবির সুপার হিট নায়িকা তিনি। এর পরেই তিনি জানতে পারেন ক্যাটরিনা কাইফ তার থেকে কেড়ে নিয়েছিলেন রণবীরকে।

২০১৫ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গোলিও কি রাসলীলা: রাম-লীলা’ ছবিতে তার অভিনয় দেখে অবাক হয়েছিলেন সমগ্র ভারতবর্ষ। বাস্তবের ‘লীলা’ পেয়ে গিয়েছিলেন তার ‘রাম’কে। অবশ্য ভালবাসতে সময় লেগেছিল তার। এই র্যাম হলেন রণবীর সিং। কাপুর না হলেও রণবীরকথা তো রয়েছে। রণবীর সিং এর ভালোবাসায় নিজেকে জড়িয়ে নেন অভিনেত্রী। এখন বলিউডের প্রথম সারির নায়িকা তিনি। বেছে বেছে ছবি সিলেক্ট করার ক্ষমতা রয়েছে তার। সঞ্জয় লীলা বানসালির একের পর এক ছবির ‘মস্তানি’ তিনি।বলিউডের সাথে সাথে পাড়ি দিয়েছেন হলিউডেও। অ্যাওয়ার্ড, নাম, যশ, প্রতিপত্তি, টাকা, সম্পত্তি সব রয়েছে তার। ইতিমধ্যেই ছবির প্রযোজনা ও শুরু করে দিয়েছেন তিনি।

 

Related Articles

Back to top button