বিনোদনসেরা খবর

‘আত্মহত্যাই শেষ রাস্তা মনে হয়েছিল’, জীবনের কঠিন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী

সবাই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়না। কিছু মানুষকে নিজের গায়ের রক্ত জল করে পায়ের নিচের জমি শক্ত করতে হয়। এরকমই একজন কিংবদন্তী অভিনেতা হলেন মিঠুন চক্রবর্তী। ফুটপাত থেকে শুরু করে বলিউডের মসনদে বসেছেন তিনি। মৃণাল সেন পরিচালিত ‘মৃগয়া’র জন্য জাতীয় পুরস্কার পেলেও বলিউডে অত সহজে জায়গা মেলেনি তার।

জেদের অপর নাম মিঠুন চক্রবর্তী বললেও অত্যুক্তি হবেনা। প্রচুর লড়াই, অনমনীয় জেদ আর কঠোর পরিশ্রমের পর আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন তিনি। মাঝে মাঝে সাফল্য নিয়ে তাঁর মনেও যে সন্দেহ জাগতোনা তা নয়। তবে সন্দেহকে দূর করে আবারও লেগে পড়তেন নিজের কাজে। তবে জানেন কি এহেন লড়াকু মানুষটার মনে একবার নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চিন্তা এসেছিলো।

সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজের প্রারম্ভিক জীবনের কথা মনে করে জানান যে, ”সকলকেই লড়াই করতে হয়। কিন্তু আমাকে একটু বেশিই করতে হয়েছিল। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল, আমি বোধহয় আমার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না। নানা কারণে কলকাতাতেও ফিরতে পারছিলাম না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল, আমি এমনকী আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু আমার সকলের প্রতি উপদেশ, কখনও লড়াই বন্ধ করে জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা ভাববেন না। আমি জন্মগত ভাবে একজন লড়াকু মানুষ। আমি হারতে শিখিনি। দেখুন, আজ আমি কোথায় পৌঁছেছি।”

অভিনেতাকে শেষ দেখা গিয়েছে বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ছবিতে। ছবিটি যে কীরকম সাড়া ফেলেছে দেশজুড়ে তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই বোধহয়। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এরপর মিঠুন চক্রবর্তী কাজ করতে চলেছেন বাংলা ছবি ‘প্রজাপতি’তে।

তবে ৭২ বছর এসেও তরতাজা থাকলেও একটু নিরাশার সুর শোনা গেলো অভিনেতার গলায়। কোথাও যেন আগের দিনের হইহুল্লোড়কে মিস করছেন তিনি। কথাপ্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, “যত সময় যাচ্ছে ততই যেন মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, ”আগে আমরা একসঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়া করতাম। এখন সবাই যার যার ভ্যানিটি ভ্যানে ঢুকে পড়ে নিজের ফোনেই ব্যস্ত থাকে।”

Related Articles

Back to top button