বিনোদনসেরা খবর

নেশা ছিল জীবনের ধ্যান-জ্ঞান,নেশার জন্য চুরি করেছেন মায়ের গয়না, অতীতের ড্রাগ আসক্তি নিয়ে মুখ খুললেন ‘গাঁটছড়া’র রাহুল

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়- এই মুহূর্তে টলিউডের অন্যতম পরিচিত নাম। বড়োপর্দা থেকে ছোট পর্দা সবেতেই তার অবাধ বিচরণ। এই মুহূর্তে তাকে দেখা যাচ্ছে ‘গাঁটছড়া’ ধারাবাহিকে একটি নেতিবাচক চরিত্রে। এই ধারাবাহিকের সৌজন্যেই ব্যাপক নাম কুড়িয়েছেন দর্শকমহলে। এমন প্রানবন্ত উচ্ছল ছেলেরও যে একটা অন্ধকার অতীত থাকতে পারে তা ভাবতেই যেন অদ্ভুত লাগে।

সত্যিই অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের অতীত জানলে শিউরে উঠতে হয়। যদিও অতীতের কালো দিনগুলো নিয়ে মোটেও ভয় পাননা অভিনেতা। বরং সেই অন্ধকারময় জীবনকে হাতিয়ার করেই জীবনে এগিয়ে চলেছেন তিনি। যে অন্ধকারে তিনি ডুবে গেছিলেন সেই অন্ধকারে যাতে আর কেউ পড়ে সেই জন্য বারংবার আওয়াজ তুলেছেন অনিন্দ্য।

আসলে অভিনেতার জীবনের এমন একটা সময় ছিলো যখন মদ আর ড্রাগের নেশায় তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে ফেলেছিলেন। নিজের টাকা থেকে মায়ের গয়না থেকে বাবার সঞ্চয় কোনোকিছুই নষ্ট হতে বাকি থাকেনি‌। মৃত্যুর শেষ সীমানা থেকে নিজেকে ফিরিয়ে আনার লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিলোনা।

গত সোমবার মাদকাসক্তির সময়কার একটি ছবি ও এখনকার একটি ছবি কোলাজ করে পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এই ছবিটা পেলাম। সম্ভবত, ২০০৪ কিংবা ২০০৫ সালের। আমি সে সময় মাদক সেবন করতাম। আমার শরীরে কোনও শিরাই আর বাকি ছিল না। আমি বন্ধুদের চোখের সামনে মরতেও দেখেছি। এখন আমি সেইসব থেকে অনেক দূরে। মাদকের নেশা থেকে মুক্ত আমি। এখনও ভাবলে অবাক হই, কীভাবে এই নরক থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম সেই সময়। সত্যিই মিরাকেল বলে কিছু আছে। আর আমি তাতে বিশ্বাস করি।’

এই বছরই নিজের জন্মদিনের দিন তার অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার জার্নিটা তুলে ধরেছিলেন অনুরাগীদের সামনে। অনিন্দ্যর কথায়, ‘আমার কাছে এখনও জলের মতো স্পষ্ট ২০০৮ সালে আজকের এই দিনটা। ব্যাঙ্কসাল কোর্টে হাজিরা দিয়ে আমাকে রিহ্যাবে ফিরতেই হতো। ৯টার বনগাঁ লোকাল আর সাথে ছিল শেষবারের মতন নেশা করবো বলে একটু ব্রাউন সুগার। হাওড়া স্টেশনে নেমে একটু এগোলেই সেই রিহ্যাব যেখান থেকে আমার ভালো থাকার লড়াই শুরু হয়েছিল।’

একটা সময় এমন ছিলো যখন নেশার জন্য চুরি করতেও কুন্ঠিত হতেননা তিনি। অভিনেতার কথায়,’চোখের সামনে চারটে ইউজিং পার্টনার কে পরপর মরতে দেখে একটু ভয়ও পেয়েছিলাম। এতটাই বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিলাম যে আমার সেই রিহ্যাবে যাওয়া আর সেখানে আবার কয়েকমাস চার দেওয়ালের মধ্যে থাকা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না’। সেই থেকে শুরু, আজ অবদি দীর্ঘ দেড় দশক মাদক স্পর্শ করেননি অনিন্দ্য। আজ তিনি নিজে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন পাশাপাশি লাখো মানুষকে বাঁচার স্বপ্ন দেখান।

Related Articles

Back to top button