বিনোদনসেরা খবর

‘আমি চাইনা আমার ছেলে বলিউডে আসুক’, গডফাদার থেকেও ছেলেকে বলিউডে নামাতে রাজি নন ববি দেওল!

নব্বই’য়ের দশক, রূপোলী পর্দায় আবির্ভাব নতুন এক নায়কের। দীর্ঘকায় চেহারা, ঘাড় অবধি লম্বা কোঁকড়া চুল, দীপ্ত চোখ, সুপারস্টার ধর্মেন্দ্র-পুত্র ববি দেওল। ইন্ডাস্ট্রির এক পরিচিত নাম, তবে মাঝখানে বেশ কিছুদিন স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেলেও সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ ‘আশ্রম 3’ এর সৌজন্যে খবরের শিরোনামে ছেয়ে আছেন এই বলিউড সুপারস্টার। ববি এই সিরিজে নিজের অনবদ্য অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। যে সময়ে ববি দেওল বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন সেই সময় তার সুঠাম সুদর্শন চেহারাকে টেক্কা দেবে এমন অভিনেতা খুব কমই ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে। তার আকর্ষনীয় লুক এবং অভিনয় প্রতিভা দেখে সকলেই এটাই বলতো যে, আগামী সময়ে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড়ো সুপারস্টার হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ববির।

তবে জানিয়ে রাখি শুধু ববি দেওলই নয়, তার ছেলেও যথেষ্ট সুদর্শন চেহারার অধিকারী। আর লোক মুখে তো এটাও শোনা যায় যে, ববির ছেলে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলে বেশ ভালো টক্কর দেবে সমসাময়িক অভিনেতাদের। তবে এই প্রশ্ন ববিকে করা হলে তার গলায় শোনা গেলো অন্য সুর। ববির কথায়, “আমি জানি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কী ঘটতে পারে এবং সুদর্শন, নায়ক সুলভ চেহারা,‌ গ্যারান্টি দেয় না যে আপনি চলচ্চিত্র জগতে সুপারস্টার হয়ে উঠবেন … এই একই কথা আমার সম্পর্কেও সবসময় বলা হয়েছিল। কিন্তু সবাই জানে আমার সাথে কী হয়েছে..।

ছেলে প্রসঙ্গে ববি আরও জানান যে, “আমার ছেলে বর্তমানে পড়াশোনায় মনোযোগ দিচ্ছে এবং সে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কোর্স করছে। আমিও চাই আমার ছেলে আগে পড়াশুনা শেষ করুক তারপর ফিল্মে নিজের ভাগ্য পরীক্ষার চেষ্টা করুক। কারণ বর্তমান সময়ে শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনি অভিনয় জগতে ব্যর্থ হলেও আপনার কাছে অন্য কিছু করার বিকল্প থাকবে। তখন আপনি অন্য কিছু কাজ করতে পারবেন কারণ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার সাফল্যের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ববির মতানুসারে, দর্শক কতক্ষন একজন তারকাকে পছন্দ করবে তা আগে থেকে কিছুই বলা যায়না। আর তিনি নিজেই এই ঘটনার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। তিনি নিজে কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর ছেলে হয়েও চরম ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছেন। ববির কথায়, ‘স্টার কিড হওয়ার দরুন আমি আমার পড়ালেখায় মনোযোগ দিইনি, যার ফল আমায় ভূগতে হয়েছিলো। সেজন্য আমি চাই আমার সন্তানরা আগে তাদের লেখাপড়ার দিকে মনোনিবেশ করুক এবং তারপর অভিনয় জগতে তাদের ভাগ্য চেষ্টা করুক।’

কর্মজীবনের কথা বললে ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বারসাত’ ছবির হাত ধরে বলিউডে আত্মপ্রকাশ ববির। প্রথমদিকে তার জনপ্রিয়তা ছিলো অসাধারণ, একপ্রকার রাতারাতিই স্টার থেকে সুপারস্টার হয়ে ওঠেন তিনি। এক সময় ববি দেওলের ছবির গান মানুষের ঠোঁটে ঠাঁই করে নিলেও হঠাৎ করেই ক্রমশ নিম্নমুখী হতে থাকে তার কেরিয়ার গ্রাফ‌। ধীরে ধীরে কমতে থাকে স্টারডম। একটা সময় এমন আসে যখন তারই সমসাময়িক অভিনেতা শাহরুখ, অক্ষয়, আমিরদের ঝুলিতে গন্ডা গন্ডা প্রোজেক্ট অথচ তার ভাঁড়ার পুরোটাই শূন্য। মাঝে বেশ কিছুটা লম্বা বিরতি নিলেও আবার বেশ ভালো ভাবেই কামব্যাক করতে সফল হয়েছেন তিনি সেটা তার ‘আশ্রম 3’ এর সফলতা দেখলেই বোঝা যায়।

Related Articles

Back to top button