বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কথায় আছে, জোর যার মুলুক তার। তবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মতো পরাশক্তির সামনে মাথা নোয়াতে রাজি নয় ইরান। বলা চলে, দুই পেশি শক্তির সামনে একাই বুক চিতিয়ে লড়ছে সে। নেই নেই করে, পঞ্চম দিনে পা রেখেছে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েলের ভয়াবহ যুদ্ধ (Iran-US War)। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ইরানের বুকে অন্তত 200টি হামলা চালিয়েছে এই দুই দেশ। অন্যদিকে ইরানও পশ্চিমি এশিয়ায় বলা ভাল আরব দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বলে বলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তাতে কত সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের? প্রকাশ্যে এসেছে সেই তথ্য।
ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে কত খসলো আমেরিকার?
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার প্রথম 24 ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকার কম করে 779 মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় সেই পরিমাণটা প্রায় 6 হাজার 900 কোটি টাকা। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হল যুদ্ধবিমান বহনকারী জাহাজ সক্রিয় রাখা। আর এই কাজ করতে গিয়েই প্রতিদিন 6.5 মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে আমেরিকার, ভারতীয় মুদ্রায় যা 58 কোটি টাকা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, 28 ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালাতে নামানো হয়েছিল বিমান থেকে শুরু করে যুদ্ধজাহাজ। সেসব করতে গিয়ে যুদ্ধের আগেই আমেরিকার পকেট থেকে বেরিয়ে ছিল 5 হাজার 556 কোটি টাকা। এদিকে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা আমেরিকার ঘাঁটি ধ্বংস করছে। তাতে বিপুল সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে আমেরিকার। ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বলে দিয়েছেন, এই যুদ্ধ এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে আজীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে আমেরিকা।
অবশ্যই পড়ুন: ট্রাফিক আইন ভাঙলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি! কত জরিমানা করা হল মাহিকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযান অর্থাৎ সংঘাত অব্যাহত থাকলে বা যুদ্ধ দীর্ঘ দীর্ঘায়িত হলে একসাথে 210 বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি খরচ হতে পারে আমেরিকার সরকারের। ভারতীয় মুদ্রায় হিসেব করলে এই সংখ্যাটা দাঁড়াবে 18.87 লক্ষ কোটি টাকা। তবে এই মুহূর্তে প্রতিদিন ইরানে যুদ্ধ চালাতে গিয়ে আমেরিকার খরচ হচ্ছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় 538 কোটি টাকার কাছাকাছি। বিশ্লেষক মহলের দাবি, আমেরিকার আর্থিক খরচ শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব যুদ্ধের খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ, নিজের সাথে সাথে ইরানে হামলা চালাতে ইজরায়েলকেও অর্থ সাহায্য করছে ওয়াশিংটন ডিসি। সেই সাথে প্রয়োজন হলে আগামীতে উপসাগরীয় দেশগুলিকেও ইরানে হামলা চালানোর জন্য আর্থিক এবং সামরিক সাহায্য করতে পারে আমেরিকা। তাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খরচের তালিকা আরও প্রশস্ত হবে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।











