কবে প্রকাশ পাবে অষ্টম বেতন পে কমিশনের (8th Pay Commission) রিপোর্ট? ২০২৭ সালের আগে কি মিলতে পারে সুখবর? এখন এই প্রশ্নই তুলছেন প্রায় ৭০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর গঠিত হওয়ার পর কমিশনটি নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে রয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো রিপোর্ট জমা দেয়নি। আর কবে? এই নিয়ে সরাসরি জবাব দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
২০২৭-এর আগে আসবে পে কমিশনের রিপোর্ট?
কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে স্পষ্ট করেছে যে, সংশোধিত বেতন, ভাতা এবং পেনশনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়নি, এবং এগুলি কবে থেকে কার্যকর হবে সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লোকসভায় একটি লিখিত উত্তরে জানিয়েছেন যে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন এখনও তার সুপারিশ জমা দেয়নি। এর অর্থ হলো, কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সেইসঙ্গে বেতন, মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance), অন্যান্য ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধা সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই স্পষ্ট হবে বলে খবর।
অষ্টম বেতন কমিশন কবে কার্যকর করা হবে?
সরকার বলছে, কমিশনকে গঠনের তারিখ থেকে ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে, যার শেষ তারিখ মে ২০২৭, কিন্তু সংশোধিত বেতন-পেনশন কাঠামোটি কবে থেকে কার্যকর হবে সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। এই বেতন কমিশনের আওতাভুক্ত ৩৫.৭৭ লক্ষ কর্মচারী এবং ৩৩.৭৬ লক্ষ পেনশনভোগীর জন্য এই অনিশ্চয়তা উদ্বেগের কারণ । এর মধ্যে প্রতিরক্ষা পেনশনভোগীরা অন্তর্ভুক্ত নন।
অন্যদিকে ক্রমাগত নানা রকম দাবি তুলে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বিভিন্ন সংগঠন। ভারত পেনশনভোগী সমিতি (বিপিএস)-এর মতো সংগঠনগুলি কমিশনের কাছে ক্রমাগত ছাড়ের দাবি জানাচ্ছে। প্রায় ১০ লক্ষ পেনশনভোগীর প্রতিনিধিত্বকারী বিপিএস ৭ই আগস্ট কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর)-এর ত্রৈমাসিক সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের যুক্তি অনুযায়ী, বর্তমান দ্বিবার্ষিক সংশোধন ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সুরক্ষা প্রদান করে না, এবং তাই, ত্রৈমাসিক গড়ের ভিত্তিতে সংশোধন করা উচিত। পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য, ডিআর (DR) ২৫% অতিক্রম করার সাথে সাথেই এটিকে মূল পেনশনের সাথে একীভূত করার একটি জোরালো দাবিও রয়েছে।
ন্যূনতম পেনশন বাড়বে?
বিপিএস ন্যূনতম ৪৫,০০০ টাকা পেনশন এবং ন্যূনতম ৬৯,০০০ টাকা মূল বেতনের পাশাপাশি ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাব করেছে। একই দাবি করেছে এনসি-জেসিএম স্টাফ-রাও। এছাড়াও, দীর্ঘ বিরতির অসুবিধা এড়ানোর জন্য তারা ১০ বছরের পরিবর্তে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বেতন-পেনশন পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

