শ্রী ভট্টাচার্য, কলকাতা: প্রতি মাসেই আপনার বেতন থেকে সামান্য পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হয়, যা আপনি সম্ভবত উপেক্ষা করেন। কিন্তু এই ছোট সঞ্চয়গুলি ভবিষ্যতে আপনার সবচেয়ে বড় সহায়ক হয়ে উঠবে। যখন আপনাকে চাকরি ছাড়তে হয়, চিকিৎসার জরুরি অবস্থা থাকে, বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ থাকে অথবা আপনার স্বপ্নের বাড়ি তৈরির সুযোগ আসে, তখন এই পিএফের টাকা আপনাকে সাহায্য করে।
কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই এই টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন। (PF Withdrawl Rules) আপনিও যদি নিজ সময়ে আপনার পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে চান, তাহলে আমরা আপনাকে একটি সহজ উপায় বলব যার মাধ্যমে এই কাজটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
পিএফ তোলার যোগ্যতা এবং প্রক্রিয়া (PF Withdrawl Rules)
কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (EPFO) তার সদস্যদের বিভিন্ন কারণে PF উত্তোলনের অনুমতি দেয়।
- সাধারণত কর্মচারীরা অবসর গ্রহণের পরে, চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরে বা মৃত্যুর পরে পিএফ তুলতে পারেন।
- এছাড়াও, বাড়ি তৈরি, বাচ্চাদের পড়াশোনা, বিয়ে বা চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনেও পিএফ থেকে টাকা তোলা যায়।
পিএফর টাকা তোলার সহজ প্রক্রিয়া
- লগইন: আপনার UAN এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে EPFO পোর্টাল বা উমঙ্গ অ্যাপে লগইন করুন।
- অনলাইন পরিষেবা নির্বাচন করুন: হোম পেজে ‘অনলাইন পরিষেবা/ Online Service’ বিকল্পে যান এবং ‘Claim বা ক্লেম’ এ ক্লিক করুন।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যাচাইকরণ: আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর চেক করুন এবং এগিয়ে যান।
- দাবির ফর্মটি পূরণ করুন: ‘পিএফ অ্যাডভান্স ফর্ম ১৯’ নির্বাচন করুন, উত্তোলনের কারণ এবং পরিমাণ পূরণ করুন।
- ডকুমেন্ট আপলোড করুন: ব্যাঙ্ক পাসবুক বা চেকের স্ক্যান করা কপি আপলোড করুন।
- আধার যাচাই করুন: আধার নম্বরের মাধ্যমে যাচাই করুন এবং ফর্মটি জমা দিন।
- এর পরে, আপনার দাবি প্রসেস করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হবে।
পিএফ তোলার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এবং সতর্কতা
পিএফ তোলার নিয়মগুলি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যাতে কোনও বিলম্ব বা প্রত্যাখ্যান না হয়।
- চাকরি ছাড়ার পর যদি কোনও কর্মী দুই মাস বেকার থাকেন, তাহলে তিনি তার পুরো পিএফ তুলতে পারবেন।
- কিন্তু কর্মরত অবস্থায় পিএফ তোলার অনুমতি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়।
- সরকার পিএফ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল এবং সহজ করেছে যাতে কর্মীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ উত্তোলনে কোনও সমস্যায় না পড়েন।
কত দিনের মধ্যে টাকা পেয়ে যাবেন?
আবেদন জমা দেওয়ার ৭ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সাধারণত কর্মচারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হয়। যদি কর্মচারীর আধার নম্বর পিএফ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকে, তাহলে এই প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হয়ে যায়। আধার নম্বরের সাহায্যে, নথিপত্র পরীক্ষা করার প্রয়োজন কম হয় এবং তাই টাকা দ্রুত পাওয়া যায়। এই সুবিধাটি কর্মীদের জন্য খুবই উপকারি কারণ এটি কোনও ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত তহবিল পেতে সাহায্য করে।
প্রসঙ্গত, EPF (কর্মচারী ভবিষ্যনিধি তহবিল) হল একটি সঞ্চয় প্রকল্প যেখানে কর্মচারী এবং কোম্পানি উভয়ই প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ অবদান রাখে। এই অর্থ ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ তহবিল হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি কর্মচারীর একটি ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) থাকে যা তাদের পিএফ অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে, তারা সহজেই তাদের পিএফ ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে তা তুলতেও পারবেন।