মেয়েদের জন্য দারুণ স্কিম আনল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার মেয়েদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রকল্প ‘লেক লড়কি যোজনা’-র (Lek Ladki Yojana) প্রক্রিয়া সহজ করেছে। যোগ্য মেয়েদের অভিভাবকরা এখন ‘আপলে সরকার’ (Aaple Sarkar) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অদিতি তটকরের মতে, সরকার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এই স্কিমের মাধ্যমে মেয়েরা ১. ০১ লক্ষ টাকা পেয়ে যাবে। চলুন স্কিমটি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক। 

 

মেয়েদের ১. ০১ লক্ষ টাকা দিচ্ছে সরকার 

 

নতুন সিস্টেমটি আবেদন প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে ডিজিটাল করেছে। আধার নম্বর ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা হবে। এছাড়াও, শিশু, তার মা এবং তার বাবার জন্য ই-কেওয়াইসি (e-KYC) করা হবে। এর ফলে অভিভাবকদের বারবার নথি জমা দেওয়ার ঝামেলা দূর হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধার জন্য পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন হবে না। যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে, অবশিষ্ট অর্থ পদ্ধতি অনুযায়ী সরাসরি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে।

সরকার এখন ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে প্রকল্পের তহবিল সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করবে। এর ফলে আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না। আবেদন করার সময় অভিভাবকদেরও আর আলাদাভাবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের তথ্য পূরণ করতে হবে না। সরকার জানিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থা সুবিধাভোগীদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সহজ করে তুলবে। এর লক্ষ্য হলো যত বেশি সম্ভব যোগ্য মেয়েকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা।

 

কীভাবে টাকা মিলবে?

এই স্কিমের অধীনে, ২০২৩ সালের ১লা এপ্রিল বা তার পরে জন্মগ্রহণকারী যোগ্য মেয়েরা বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। জন্মের সময় ৫,০০০ টাকা, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় ৬,০০০ টাকা, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময় ৭,০০০ টাকা, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় ৮,০০০ টাকা এবং ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে ৭৫,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে প্রত্যেক যোগ্য মেয়ে মোট ১,০১,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা পায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং পরিবার ও সমাজে তাদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা।

 

যোগ্যতা কী?

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে পরিবারটিকে অবশ্যই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়াও, পরিবারটির একটি হলুদ বা কমলা রেশন কার্ড থাকতে হবে এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আয় ও অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। লেক লড়কি যোজনার অনলাইন আবেদন, ডিবিটি এবং কম নথিপত্রের কারণে এই নতুন সরকারি ব্যবস্থাটি অভিভাবকদের জন্য প্রকল্পটির সুবিধা পাওয়াকে আরও অনেক সহজ করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।