দেশের কয়েক কোটি কৃষকের জন্য রইল দারুণ সুখবর। বিরাট সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। একদিকে যখন ভারতে কৃষকরা পিএম কিষাণ যোজনার (PM Kisan Yojana) ২৪ তম কিস্তির অপেক্ষা করছেন তখন অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বড় উপহার দিল। কেন্দ্রীয় সরকার প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষকদের বার্ষিক আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। জনপ্রতিনিধি ও কৃষকেরা এই সিদ্ধান্তকে কৃষকদের স্বার্থে একটি বড় পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। 

২০৩১ সাল অবধি চলবে পিএম কিষাণ যোজনা 

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার অধীনে, যোগ্য কৃষকেরা বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিনটি সমান কিস্তিতে পেয়ে থাকেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো কৃষকদের কৃষিকাজের খরচের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং তাদের আয় বাড়াতে সাহায্য করা। অনেকেই বলছেন, ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি কেবল কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষাই দেবে না, বরং কৃষি খাত এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে। 

 ডিবিটি ব্যবস্থা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। এটি বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি প্রয়োজনের জন্য কৃষকদের সময়মতো আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করে, যার ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা হয়। ট্রেড ওয়েলফেয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজেশ ঠাকরাল বলেছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের সর্বোত্তম স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। বার্ষিক ৬,০০০ টাকার এই সহায়তা কৃষিকাজের ছোটখাটো খরচ মেটাতে সাহায্য করে এবং এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি কৃষকদের জন্য লাভজনক।

বরাদ্দ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা 

সরকার জানিয়েছে, এই স্কিম ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরকার আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে ৩,১৫,৬১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কৃষকরা একটি স্থিতিশীল আয় পাবেন এবং কৃষিকাজের অপরিহার্য খরচ মেটানো সহজ হবে। এতে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের মতে, এই প্রকল্পের কিস্তিগুলো এমন সময়ে প্রদান করা হয়, যখন কৃষকদের বীজ, সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার জন্য অর্থের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। এতে কৃষকদের নগদ অর্থের সংকট কমে এবং উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায়।