শ্রী ভট্টাচার্য, কলকাতা: নরকের দরজা কেমন দেখতে হবে, তা হয়তো আপনি কেবল গল্প বা সিনেমাতেই শুনেছেন, কিন্তু বাস্তবে এটি কেমন হবে তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? আমাদের মহাবিশ্বে এমন অনেক গ্রহ আছে যেখানে আমরা এখনও পৌঁছাতে পারিনি। অনেকেই কেবল আমাদের সৌরজগৎ সম্পর্কেই জানেন, যেখানে বিজ্ঞান এর চেয়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। তবুও আমরা এখনও মহাবিশ্বকে পুরোপুরি বুঝতে পারিনি (Science Facts)।
সম্প্রতি নাসা এমন এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে যে এটি শুনলে আপনার মেরুদণ্ডে রোদ চড়ে যেতে পারে। আসলে, নাসা গ্যালাক্সিতে ‘নরকের দরজা’ আবিষ্কার করেছে। এই আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরাও অবাক। এটিকে একটি খুব বড় আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এখন নাসার এই আবিষ্কার সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। এর পেছনের কারণ জানুন এই খবরে।
পৃথিবী থেকে কত দূরে অবস্থিত ‘নরকের দরজা’?
এটি পৃথিবী থেকে ৫২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্যালাক্সি M87-তে বিদ্যমান, যেখানে ১০০ বিলিয়নেরও বেশি তারা রয়েছে। কিন্তু এই ছায়াপথের কেন্দ্রটিকে সবচেয়ে রহস্যময় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা দেখে বিজ্ঞানীরাও অবাক। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন যে এই কৃষ্ণগহ্বরের ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ২.৬ বিলিয়ন গুণ বেশি। এটিকে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কৃষ্ণগহ্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি আসলে ‘নরকের দরজা’ কারণ এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত বেশি যে এটি এর চারপাশের সময় এবং স্থানকেও ক্রমাগত বিকৃত করে চলেছে।
কী এমন রয়েছে ওই দরজার ওপারে?
M87 গ্যালাক্সিটি সর্বদা বিজ্ঞানীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, কারণ এখানে উপস্থিত বিশাল কৃষ্ণগহ্বর গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই গ্যালাক্সির অনেক বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এতে রয়েছে বিশাল এক প্লাজমা, যা হাজার হাজার আলোকবর্ষ ধরে মহাকাশে বিস্তৃত। এটি আমাদের বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক আগে আবিষ্কার করেছিলেন। এই ছায়াপথের কেন্দ্র থেকেও রেডিও নির্গমন হয়। এই ছায়াপথটি অত্যন্ত শক্তিশালী, যে কারণে বিজ্ঞানীরা এটি নিয়ে ক্রমাগত গবেষণা করে চলেছেন। সবটা জানতে এখনও অনেক পথ এগোনো কিন্তু বাকি।