পার্থ সারথি মান্না, কলকাতাঃ একাধিক ইকোনোমিক রিপোর্ট বলছে, দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের আয় কমলেও মূল্যবৃদ্ধি কমার নাম নেই। এরই মধ্যে ১ লা এপ্রিল থেকেই ফের একবার দাম বাড়ল ৭৪৮টি ওষুধের (Medicine Price Hike)। অর্থাৎ সুস্থ থাকার জন্যও এবার থেকে গুণতে হবে বেশি টাকা। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ফের একবার প্রশ্ন তুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব মমতা
সম্প্রতি ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটির তরফ থেকে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, ব্লাড থিনার, ব্লাড প্রেশার এমনকি জ্বর, গ্যাস ও হাঁপানির মত সমস্যার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, স্টেন্ট থেকে সরু করে অর্থোপেডিক চিকিৎসার সরঞ্জামের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওষুধের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়েই এবার চরম আপত্তি প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পথে নামার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সূত্র মতে, ১.৭৪% দাম বাড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন অসুধের। সাধারণ মানুষের যেখানে আয় বৃদ্ধি সেভাবে হচ্ছে না সেখানে ওষুধের দাম বাড়ানো একেবারেই অনুচিত। তাই এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে পথে নামার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী শুক্র ও শনিবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের আহ্বান দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ চেকের এই ৭ নম্বরেই লুকিয়ে ব্যাঙ্কের গোপন রহস্য, জানেন না ৯৯ শতাংশই
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘আমি ওষুধের এই দাম বাড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ করছি। বর্ধিত দাম যাতে দ্রুত প্রত্যাহার করা হয় তার আর্জি জানাচ্ছি। এখন থেকে প্রতিবাদ না করলে স্বাস্থ্য পরিষেবা হাতের বাইরে চলে যাবে।’ অবশ্য এখানেই শেষ নয়, এরই সাথে স্বাস্থ্যবীমায় কেন জিএসটি বসানো হচ্ছে ও কেন এভাবে বারবার ওষুধের দাম বাড়ানো হচ্ছে সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। শেষে কেন্দ্রীয় সড়কের বিরুদ্ধে তীর দেগে তিনি জানান, গরীবরা এত দাম দিয়ে ওষুধ কিনতে পারবে না, সরকার শুধুমাত্র এক শ্রেণীর মানুষের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ওষুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সত্যিই চিন্তিত ও দুঃখিত। স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ। তাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকান ও স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর জন্য রাজ্যের অনেক টাকা খরচ হয়। কিন্তু এভাবে ওষুধের দাম বাড়ানো মোটেই সমর্থন করা যায় না।