পার্থ সারথি মান্না, কলকাতাঃ দীর্ঘ চাপানোতরের পর শেষমেশ স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২৬,০০০ চাকরিপ্রার্থীর মামলার রায় প্রকাশ্যে এল। চাকরি হারালো ২৫,৭৫২ জন। তবে শুধুই রায় ঘোষণা নয়, একইসাথে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত নিয়োগের। এমনকি সময়ও বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিভাবে হবে নতুন নিয়োগ? কারা আবেদন করতে পারবেন? জানতে আজকের প্রতিবেদনটি শেষ অবধি পড়ুন।
SSC দুর্নীতি মামলায় ২৫,৭৫২ জনের চাকরি বাতিল
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে উঠেছিল মামলা। তাঁদের মতে, যারা অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছিল তাদের ইতিমধ্যেই বাছাই করে চাকরি থেকে বের করে দিয়েছে। এই রায়ের উপরে আলাদা করে কোনো কিছু শুনানি হয়নি। চাকরি যাওয়া প্রার্থীদের বেতন ফেতর দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে তবে ২৬,০০০ এর মধ্যে সিংহভাগই অযোগ্য না যোগ্য চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। গোটা নিয়োগ পক্রিয়ার অনিয়মের জেরেই স্কের চাকরি বাতিল হল।
যদিও যে সমস্ত প্রার্থীদের চাকরি বাতিল হল তারা অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হননি বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে। তারা চাইলেই নতুন নিয়োগে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বয়সের ছাড় দেওয়া হবে। আদালতের মতে, এটাই ন্যায্য। তাই এটাই হওয়া উচিত।
নয়া নিয়োগের ছাড় পাবে চাকরি বাতিল প্রার্থীরা
২৬,০০০ চাকরির বাতিলের পাশাপাশি আগামী ৩ মাসের মধ্যেই নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে শীর্য আদালত। এক্ষেত্রে চাকরিহারা ব্যক্তিরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন বলা হলেও নতুন প্রার্থীদের এই সুযোগ দেওয়া হবে কি না তা সম্পকে কিছু জানানো হয়নি।
সাংবাদিক বৈঠকে নতুন নিয়োগ সম্পর্কে মুখ খুললেন মমতা
এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর নবান্ন থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রায়ের কিছুটা পরে শোনানোর পর নতুন নিয়োগ সম্পর্ক তিনি বলেন, ‘২৫,০০০ এর কেস তো? এটা আলাদা কেস, কোর্টের নির্দেশও এই প্রার্থীদের উপর নির্ভর করে। আমরা আলাদা করে কোথাও শূন্যপদের কথা বলিনি। যখন চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে তখনই জানতে পারবেন সবটা।
আরও পড়ুনঃ এগিয়ে এল গরমের ছুটি, কবে থেকে শুরু স্কুলের হলিডে? ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কিভাবে ৩ মাসে হবে নয়া নিয়োগ?
নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকের মনেই প্রশ হচ্ছে কিভাবে তিন মাসের মধ্যে সমস্ত পক্রিয়া সম্পন্ন হবে? ইতিমধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। আনন্দবাজার পত্রিকার মতে, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। মামলার সাথে যুক্ত আইনজীবীদের সাথেও আলোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার এসএসসির সাথেও একটি বৈঠক হতে পারে।
তাছাড়া যে সমস্ত ব্যক্তিরা চাকরি হারিয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই আগে অন্য সরকারি দফতরে কাজ করতেন। সেক্ষেত্রে তারা চাইলে পুরোনো কাজের জায়গায় ফিরতে পারেন ও তাদের বেতনও বৃষ করা যাবে। মাঝের এই কিছু বছর সার্ভিস ব্রেক হিসাবে দেখানো যেতে পারে। এমনকি সরকারের তরফে সুপার নিউমেরারি পোস্টও তৈরি করা যেতে পারে। তবে আদতে কোন উপায় নেওয়া হবে সেটা আগামী কিছুদিনের মধ্যেই জানা যাবে।