অষ্টম বেতন পে কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। একের পর এক বৈঠক হয়েই চলেছে দিকে দিকে। আগামী দিনেও হবে। তবে এরই মধ্যে এই নতুন পে কমিশন নিয়ে প্রকাশ্যে এমন বড় আপডেট উঠে এসেছে যে সম্পর্কে সকল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর জানা উচিৎ। বিশেষ করে আপনিও যদি শিক্ষক (Teacher) হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপডেট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে।
অষ্টম বেতন পে কমিশনে একগুচ্ছ দাবি শিক্ষকদের
অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (এআইএনপিএসইএফ)-এর ব্যানারে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ছুটি, পেনশন এবং স্বাস্থ্য সুবিধা সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করেছে। এই সভায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, নবোদয় বিদ্যালয়, কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়, দিল্লি মিউনিসিপ্যালকর্পোরেশন (এমসিডি), এনডিএমসি, দিল্লি সরকারের স্কুল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের সম্পর্কিত বিষয়গুলি উত্থাপন করা হয়। এই বিষয়ে এআইএনপিএসইএফ-এর জাতীয় সভাপতি মনজিৎ সিং প্যাটেল বলেছেন যে, সারা দেশে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় সমতা আনা উচিত। শিক্ষকরা বলেন যে, যেহেতু বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় একই, তাই বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রেও সমতা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
কী কী দাবি রয়েছে শিক্ষকদের?
১. অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ বছর হওয়া উচিতঃ শিক্ষক সংগঠনগুলো সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ করার দাবি জানিয়েছে। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা আরও বেশিদিন চাকরি চালিয়ে যেতে পারবেন।
২. পুরাতন পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবেঃ শিক্ষকেরা অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে পুরোনো পেনশন ব্যবস্থা (ওপিএস) পুনর্বহালের দাবিও পেশ করেছেন। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে নিযুক্ত অনেক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর মতো শিক্ষকরাও এনপিএস-এর আওতাভুক্ত ছিলেন। এখন ইউপিএস-এর বিকল্পও রয়েছে, কিন্তু শিক্ষক সংগঠনগুলো ওপিএস পুনর্বহাল চায়।
৩. অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতিঃ শিক্ষকেরা অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতির জন্য ৫০% বিভাগীয় কোটার দাবি করেছেন। ২৫% পরীক্ষা কোটারও প্রস্তাব করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি ‘বিষয় প্রধান’ নামে একটি নতুন পদোন্নতির পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যার গ্রেড পে হবে ৫,৪০০ টাকা। তাঁরা উপাধ্যক্ষের গ্রেড পে বাড়িয়ে ৬,৬০০ টাকা করারও দাবি জানিয়েছেন।
৪. দিল্লির শিক্ষকদের জন্য ১০০% পদোন্নতি কোটাঃ দিল্লি সরকারের শিক্ষকদের জন্য উপাধ্যক্ষ পদে শতভাগ পদোন্নতির কোটারও দাবি উঠেছে। আশা করা হচ্ছে, এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকরা স্বস্তি পাবেন।
৫. ছুটির দিন বৃদ্ধির চাহিদাঃ শিক্ষকেরা বার্ষিক ছুটি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও ১৪ নৈমিত্তিক ছুটি, ৩০ অর্জিত ছুটি, ২০ মেডিকেল লিভের দাবি জানানো হয়েছে।
৬. দিল্লির শিক্ষকদের জন্য সিজিএইচএস (CGHS) বেছে নেওয়ার সুযোগঃ সংগঠনটি দাবি করেছে যে, দিল্লি সরকারের শিক্ষকদের অবসরের পর ডিজিইএইচএস (DGEHS) বা সিজিএইচএস (CGHS) স্বাস্থ্য পরিকল্পনার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। সংগঠনটির মতে, এর ফলে অবসরের পর নিজ শহরে ফিরে আসা শিক্ষকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সহজ হবে।
৭. পুরুষ শিক্ষকদের জন্যও শিশু পরিচর্যার ছুটিঃ শিক্ষক সংগঠন দাবি করেছে যে, পরিবারে যদি কেবল একজন পুরুষ শিক্ষকই কর্মরত থাকেন, তাহলে তিনিও যেন শিশু পরিচর্যা ছুটির (সিসিএল) সুবিধা পান।
৮. ক্যাশলেস চিকিৎসা সুবিধার চাহিদাঃ কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষকদের চাকরিকালীন সময়ে নগদবিহীন চিকিৎসা সুবিধা প্রদানেরও দাবি জানানো হয়েছে।

