অন্যান্যসেরা খবর

মাত্র ৮০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা, আজ ১৬০০ কোটির কোম্পানির মালিক

আজকের এই প্রতিবেদনে এমন এক কাহিনী আপনাদেরকে জানাবো যা শুনলে আপনারা আশ্চর্য হবেন। ভারতের (India) এখন বহু মহিলারাই কিছু অর্থ উপার্জন করার জন্য নানা রকম কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। একদিকে যেমন মহিলারা চাকরি করছেন ঠিক তেমনি গ্রামের প্রচুর মহিলা আছেন যারা ছোটখাটো কাজ ও ব্যবসার (Business) মাধ্যমে জীবিকা নির্ভর করেন।

এমনই কিছু মহিলা যারা মাত্র ৮০ টাকা ঋণ নিয়ে নতুন কাজ শুরু করেন এবং তারপরে তাদের এই কাজের মাধ্যমেই বার্ষিক ১৬০০ কোটি টাকার বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তারা। এইসকল মহিলারাই মুম্বাইয়ের (Mumbai) গুরগাঁওয়ে একসঙ্গে থাকতেন। নিজেদের জীবনের অবসর সময়ে কিছু কাজ করবার জন্য এটি প্রকল্প শুরু করেছিলেন তারা। আর এই কাজে তাদের মুখ্য উদ্যোক্তা ছিলেন যশন্তিবেন যমুনাদাস পোপাট। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই ছিলেন পার্বতীবেন রামদাস ঠোবানি, উজমাবেন নারায়ণদাস কুড্ডলিয়া প্রমুখ।

তিনি মোট ৬ জন গৃহবধূর সাথে ১৫ মার্চ, ১৯৫৯ সালে ঋণ নিয়ে ডাল ও মশলা কিনেছিলেন। আর এই দিয়ে প্রথম দিনে ৮০ টি পাপড় তৈরি করে তারা কাছাকাছি স্থানীয় বাজারের দোকানে এই পাঁপড়গুলিকে বিক্রি করেন। দোকানদার এই পাঁপড় এতটাই পছন্দ করেন যে পরেরদিন তারা আরও পাপড় চাইলেন। এভাবেই ঠিক ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন ওই মহিলারা। এভাবেই লিজ্জাত পাপড়ের জন্ম হয়। এরপর ধীরে ধীরে এই প্রকল্প আরো বাড়তে থাকে।

আরো অনেক মহিলারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে লিজ্জাতের ৬৩ টি কেন্দ্র এবং ৪০ টি মন্ডল রয়েছে এবং লিজ্জাত এখন একটি পরিবারের নাম। এখন যে অর্থ লাভ হয় তার সকল নারীর মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা যশবন্ত বেন বলেছিলেন যে গুণমানের সাথে কখনই আপস করা উচিত নয়। এমনকি তারা নো ক্রেডিট, নো লস নীতিতে কাজ করে থাকেন তাই লোকসানের কোন প্রশ্নই আসে না।

এই পাপড় তৈরি করার সময় কোন উপকরণ যদি একটুও খারাপ হয় সেটা তারা আর ব্যবহার করেন না। এই যশোবন্ত বেন পাপড় ব্যবসার জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতি থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। এখন বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা টার্নওভার করে সেই কোম্পানি।

Related Articles

Back to top button