আগস্ট মাস শুরু হতে না হতেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা RBI। সাধারণ মানুষের ঘাড় থেকে লোন কিংবা ইএমআই-এর বোঝা একটু কম হবে? জানা যাবে এই বৈঠক শেষ হলেই। সকল মধ্যবিত্তের নজর থাকবে এই বৈঠকের ওপর। নীতিগত হার নির্ধারণের জন্য আরবিআই-এর মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) বৈঠক ৩ আগস্ট শুরু হবে এবং এর সিদ্ধান্তগুলো ৫ আগস্ট ঘোষণা করা হবে।
লোন, ইএমআইয়ের বোঝা কমবে?
দেশজুড়ে ১০ জন অর্থনীতিবিদ এবং ট্রেজারি প্রধানদের একটি সমীক্ষা অনুসারে, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি এবং এফসিএনআর (বি) আমানত প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষার মধ্যে, আরবিআই তার আগস্ট মাসের মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় মূল নীতিগত হার, রেপো, অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ১ অক্টোবর থেকে বদলাচ্ছে ফিক্সড ডিপোজিটের নিয়ম, বড় সিদ্ধান্ত RBI-র
বেশিরভাগ উত্তরদাতাই আশা করছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য এবং অসমে মেঘ ভাঙা বর্ষার কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির মধ্যে RBI তার নীতিগত অবস্থান 'নিরপেক্ষ' রাখবে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন যে, আরবিআই মুদ্রাস্ফীতির পরিবর্তিত চিত্র মূল্যায়ন করার সময় একটি 'অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ' নীতি গ্রহণ করবে। আইসিআরএ-র প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার বলেন, "বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি কম এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই সর্বোত্তম নীতিগত বিকল্প।" আগস্টে বিরতির প্রত্যাশা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ উত্তরদাতা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে নীতিগত সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন। মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়লে, বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী চলতি অর্থবর্ষে অন্তত দুইবার সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন।
আরও পড়ুনঃ এই ক্রেডিট কার্ড বাতিল হবে রেশন কার্ড? সরকারের নতুন নিয়ম জারি
নিশ্চয়ই ভাবছেন রেপো রেড় কী? বর্তমানে রেপো রেট হলো ৫.২৫%। রেপো রেট বাড়লে গৃহঋণ সহ সব ধরনের ঋণের কিস্তি বেড়ে যাবে। রেপো রেট হলো সেই হার, যে হারে আরবিআই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়। রেপো রেট বাড়লে, ব্যাংকগুলো আরবিআই থেকে যে ঋণ নেয় তা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এরপর তারা এই বোঝা তাদের গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়, যার ফলে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণসহ সব ধরনের ঋণের সুদের হার বেড়ে যায়। এখন দেখার আরবিআই সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয় নাকি ঝটকা।

