অন্যান্যসেরা খবর

খুব অল্প বিনিয়োগে শুরু করুন এই চাষ, হবে মোটা টাকার আয়

কৃষিপ্রধান দেশ ভারত। ভারতের মোট শ্রমশক্তির ৫২ শতাংশই এই ক্ষেত্রে নিযুক্ত। তবে বিগত কয়েকবছরে দেশের সমস্ত কৃষিনির্ভর মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে।‌ চিরাচরিত ফসল ছেড়ে মানুষ লাভজনক ফসলের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। আর সরকারও যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় আজ এমনই এক ফসলের সাথে পাঠককুলের পরিচয় করাবো যা খরচ এবং আয় এর সাপেক্ষে অনেক বেশি লাভজনক।

আপনিও যদি চাষবাস করে ভালো টাকা রোজকার করতে চান তাহলে অবিলম্বে শুরু করুন কাজুর চাষ। ইতিমধ্যেই কাজুর চাষের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে। কারণ কাজু চাষ কৃষকদের দ্বিগুণ মুনাফা দেয়। এটি এমন একটি ফল যা মোটামুটি সব কাজেই ব্যবহৃত হয়। খাওয়া থেকে শুরু করে রান্না সবেতেই কাজুর ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই এই ড্রাই ফ্রুটসের বাজার দখল করাও খুব সহজ।

কাজু চাষের পদ্ধতি : সাধারণত আর্দ্র ও শুকনো গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে অর্থাৎ লাল বেলে দো-আঁশ মাটিতে কাজু চাষ সবচেয়ে ভালো হয়। এক্ষেত্রে চাষের মাটি তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাঁটা ঝোঁপ পরিস্কার করে সবার আগে মাটির গুণমান পরীক্ষা করা দরকার। প্রয়োজন মতো জৈব সার ব্যবহার করে আগে মাটিকে উপযোগী করে তোলা দরকার।

কাজু বপনের সময়কাল : কাজু একটি বহুবর্ষজীবী ফসল, গাছ লাগানোর ৩ বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। সাধারণত শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুতেই এই গাছ ফল দিয়ে থাকে। তবে তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রি থাকলে ফলন ভালো হয়।

একটি গাছ থেকে উৎপাদিত কাজুর সংখ্যা : জানিয়ে রাখি মাত্র একটি কাজু গাছ থেকেই গড়ে কুড়ি কেজি কাজু পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি এক হেক্টর জমিতে ৫০০টি কাজু গাছ লাগান সেক্ষেত্রে প্রায় ১০ টন কাজু উৎপাদিত হবে।

 

কীভাবে গাছের যত্ন নেবেন : কাজু গাছের ক্ষেত্রে আগাছা পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনোভাবেই যাতে গাছের গোড়ায় আগাছা জমতে না পারে সেইদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এছাড়া কীটপতঙ্গের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুধু যে কাজুর ফলটাই ব্যবহারযোগ্য এমনটা মোটেও নয়। কাজুর খোসা থেকে লুব্রিকেন্ট, পেইন্ট ইত্যাদি তৈরি করা হয়। বর্তমান বাজারে শুধু কাজুর দামই ১২০০ টাকা কেজি। চাহিদার পাশাপাশি বাজারদরও রয়েছে ভালোই। তাই কম খরচে বেশি মুনাফা করতে চাইলে আর দেরি না করে আজই শুরু করুন কাজু চাষ।

Related Articles

Back to top button