অন্যান্যসেরা খবর

দেবাদিদেব মহাদেবের পীঠস্থান কেদারনাথ, রইল রহস্যময় দেবভূমির কিছু অজানা তথ্য

কোনও কোনও বিশেষ মন্দিরের ক্ষেত্রে এক ধরণের রহস্য ঘিরে থাকে এরপর সেই দেবালয় বহু যুগ পরে এক জাগ্রত মন্দিরে পরিণত হয়। আর এখানকার অধিষ্ঠিত দেব-দেবী পূজিত হন জাগ্রতশক্তিরূপে। এমনই এক মন্দির হলো কেদারনাথ। কথিত আছে স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবের বাসস্থান এটি। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে পঞ্চম জ্যোতির্লিঙ্গ হলো কেদারনাথ।

এই মন্দির আজকের নয়, এর উল্লেখ আছে মহাভারতেও। কেদারনাথ মন্দির হলো ভগবান শিবের পবিত্রধাম, উত্তরখণ্ড চারধাম যাত্রার এক অপরিহার্য অংশ। কথিত আছে, কেদারনাথ দর্শন করলে জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্টের অবসান ঘটে এবং সমস্ত কাঙ্খিত শুভ ইচ্ছা পূরণ হয়। মন্দাকিনী নদীর তীরে সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৫৮৩ কিঃমিঃ উপরে অবস্থিত এই মন্দিরটির দরজা প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকে। মূলত ঠান্ডার কারণে বন্ধ রাখা হয় প্রবেশদ্বার।

এপ্রিলের শেষের দিকে বা মে মাসের শুরুর দিকে খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের দরজা। আর সেই সময় দেশের লাখ লাখ দর্শনার্থী ভিড় জমায় মন্দিরে। দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে আসে এই পবিত্র মন্দির দর্শন করতে। কেদারনাথ মন্দির শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ মন্দির নয়, এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পৌরাণিক কাহিনি ও অজানা রহস্য।

নর-নারায়ণের তপস্যা

কথিত আছে, হিমালয়ের এই কেদার শৃঙ্গ ছিলো বিষ্ণুর অবতার মহাতপস্বী নর ও নারায়ণ ঋষির তপস্যাস্থল। এবং তাঁরা নিজেদের কঠোর আরাধনায় তুষ্ট হয়ে স্বয়ং শিব আবির্ভূত হয়েছিলেন এই জায়গায়। এরপর থেকেই এখানে জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে বাস করতে শুরু করেন স্বয়ং দেবাদিদেব। শৃঙ্গের নামানুসারে মন্দিরের নাম রাখা হয় কেদারনাথ।

পঞ্চকেদার

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর ভাতৃহত্যা করায় আত্মগ্লানিতে ভূগছিলেন পঞ্চ পান্ডব। এরপর তাঁরা শিবের আরাধনা শুরু করেন কিন্তু শিব সেইসময় রুষ্ট ছিলেন তাঁদের প্রতি। এরপরই পঞ্চপান্ডব তখন শিব দর্শনের আশায় কাশি পৌঁছান কিন্তু সেই জায়গায় শিব না থাকায় তাঁরা পৌঁছে যায় হিমালয়ে। এদিকে শিবও ঠিক করেছেন যে তাঁদের দেখা দেবেননা তাই তিনিও চুপিসারে চলে যান কেদারে। কিন্তু তাঁরা যে পঞ্চপান্ডব, কোনোভাবেই কি দমানো যায়! পঞ্চপান্ডব তখন রওনা দেয় কেদারে।

এদিকে দেবাদিদেব তা বুঝতে পেরে বলদের রূপ ধারণ করেন। কথিত আছে পঞ্চপান্ডব কেদারে গিয়েও মহাদেবের দেখা না পেয়ে সন্দিহান হয়ে ওঠে। ভীম সেই মুহূর্তে ফন্দি আঁটে দেবাদিদেবকে জালে ফেলার। নিজে বিশালাকার করে দুই পা ছড়িয়ে দেয় দুই পর্বতে। একে একে বাকি সমস্ত পশু ভীমের পায়ের নিচে দিয়ে বেরিয়ে গেলেও একটি বলদ যেতে রাজি নয়।

এমতাবস্থায় ভীমের সন্দেহ গাঢ় হতে শুরু করলে বলদ রূপী শঙ্করও অন্তর্ধান হতে শুরু করে। এদিকে ভীমও নাছোড়বান্দা। বলদের পিঠের উঁচু অংশটি চেপে ধরে ভীম। অবশেষে পঞ্চ পান্ডবের জেদের কাছে হার মানে দেবাদিদেব। আবির্ভূত হন স্বরূপে। এরপর থেকেই বলদের পিঠের আকৃতির পিন্ড রূপে আরাধনা করা হয় দেবাদিদেবের।

Related Articles

Back to top button