দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে বাংলার সরকারি কর্মীদের জন্য রইল সুখবর। অবশেষে সপ্তম বেতন পে কমিশন (7th Pay Commission ) নিয়ে জরুরি নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে সপ্তম বেতন কমিশন। নতুন ও পরিবর্তিত বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ দাবি জানিয়ে আসছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। রাজ্যে সরকার গঠনের আগে দলীয় ইস্তেহারে সেই ৭ম বেতন কমিশন নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এবার এই নিয়ে তোড়জোড় শুরু করে দিল নবান্ন বলে খবর। সেইসঙ্গে বিভিন্ন ভাতা থেকে শুরু করে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

সপ্তম বেতন পে কমিশন নিয়ে বড় আপডেট 

বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পরই মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন করে কমিশন গঠন করা হয়েছে। মূলত এখন সপ্তম পে কমিশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ‘শর্তাবলি ও কার্যপরিধি’ নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। উল্লেখিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বেতন স্তরের সামঞ্জস্য, মহার্ঘ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা-সহ একাধিক বিষয়ে পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, কমিশনের কার্যপরিধি চূড়ান্ত হয়েছে এবং সাধারণত ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়ে। সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর চলতি অর্থবর্ষের শেষের মধ্যেই সংশোধিত বেতন কাঠামো কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। বাজেটে ঘোষিত অতিরিক্ত ২০% মহার্ঘ ভাতাও ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কী কী জানাল সরকার? 

ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের পরিবার এবং দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরির পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে ভিত্তি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান ৩ শতাংশের পরিবর্তে অন্তত ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে-ম্যাট্রিক্স তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

 ডিএ-র ক্ষেত্রে AICPI-র ভিত্তিতে সংজ্ঞা নির্ধারণ ও নিয়মিত ডিএ প্রদানের জন্য স্ট্যান্ডিং অর্ডারের প্রস্তাব রয়েছে। সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার তারিখ, হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষা ভাতা ও হস্টেল ভর্তুকিও পর্যালোচনা করা হবে। অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে ১১ বছর পর কমিউটেড পেনশন পুনরুদ্ধার, অবসরের সময় ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

এর পাশাপাশি ক্যারিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিমে বর্তমান ৮-১৫-২৪ বছরের পরিবর্তে ৫-৮-১২-১৮-২৪ বছরের পাঁচ ধাপের কাঠামো বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মী ও পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা, নগদহীন চিকিৎসা সুবিধা এবং চিকিৎসকদের ফি বৃদ্ধির বিষয়ও কমিশনের কার্যপরিধিতে রাখা হয়েছে। এখন দেখার সরকার এই বিষয়ে আর কী কী সিদ্ধান্ত নেয় আগামী দিনে।