কারা অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা পাবেন আর কারা পাবেন না, তা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আবেদনকারীদের ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ হলেই, শুরু হবে প্রকল্পের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া। আগামী ১৭ আগস্ট ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ হবে, তারপরেই শুরু হবে আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার কাজ। তারপরেও কেউ যদি টাকা না পান তাহলে চিন্তার কিছু নেই, কারণ এবার নতুন পোর্টালের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। কীভাবে কাজ করবে সেটি?
কারা পাবেন আর কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?
আবেদন করেছেন অনেকেই, কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কি সবাই পাবেন? না, সবাই পাবেন না। কারা এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাবেন না? মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১৭ আগস্ট থেকেই নতুন আবেদনকারী মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে। তবে, যে সমস্ত মহিলা আবেদনকারীদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি, শহর এলাকায় যাদের তিনটির বেশি পাকা ঘর রয়েছে, যাদের পারিবারিক বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা বা তার বেশি, এবং পুরসভা অঞ্চলে যাদের ৫০ ডেসিমেল কিংবা তার বেশি জমি রয়েছে, তারা রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না। বয়সের ব্যাপারও রয়েছে।
আবেদনকারীর বয়স হতে হবে নূন্যতম ২৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৬০ বছর। তবে যারা প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তাদেরকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরো একটি বিষয় মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। সরকারী চাকুরিরত মহিলা আবেদনাকারীরাও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।
জানাতে পারবেন অভিযোগ
অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন আবেদনকারীরা। একটি অভিযোগ পোর্টাল চালু করা হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটি পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। এই পোর্টালে এই প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ জানানো যাবে। সেক্ষেত্রে কোনও আবেদনকারী যদি মনে করেন ভুলবশত তাঁর আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে, তাহলে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এমনকি কেউ অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, এমন মনে হলে সেক্ষেত্রেও অভিযোগ জানানো যাবে। তবে অভিযোগের সঙ্গে যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে।
বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
"আমাদের যাঁরা যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে, আগেই বলা আছে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনও বিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি আন্ডার টেকিং, পঞ্চয়েত বা পৌরসভা, সরকারি বা সরকারি সাহাজ্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএর শিক্ষক বা শিক্ষকর্মী, স্থানীয় সরকারি চাকরিতে যুক্ত বা পেনশন পান; এঁরা এর মধ্যে থাকবেন না," শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, "যে পরিবার আয়কর দেয়, অর্থাৎ আয় বছরে ১২ লক্ষ টাকা সেই পরিবার এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এবং যে মহিলা নিজে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাকেও এই বিবেচনার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে নিয়ে আসা হয়নি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে পরিবারের পুরুষরা ক্যাজুয়াল বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন, সেই বাড়ির মহিলারা বিবেচিত হবেন।"

