নতুন নিয়মে রেশন বন্টন ব্যবস্থা শুরু হয়েছে বাংলায়। চালু হয়েছে স্মার্ট রেশন কার্ড (Smart Ration)। যদিও স্মার্ট ব্যবস্থা চালু হওয়ার জেরে বিপাকে পড়তে হয়েছে রেশন ডিলারদের। এর ফলে এখন খাদ্য দফতরের দ্বারস্থ হলেন সকলে, জমা পড়তে শুরু করেছে ভুরি ভুরি অভিযোগ। নতুন রেশন ব্যবস্থা চালু হতে না হতেই যেহেতু ত্রুটি ধরা পড়েছে, তাই বাংলার খাদ্যসচিবকে চিঠি পাঠালেন রেশন ডিলাররা বলে খবর। 

স্মার্ট রেশন নিয়ে বিপাকে ডিলাররা

রেশন প্রক্রিয়ায় কালোবাজারি রুখতে ও ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার স্মার্ট রেশন কার্ড ব্যবস্থা চালু করেছে ১ আগস্ট থেকে। সবাই কিন্তু এই বিশেষ সুবিধা পাবেন না। এদিকে এই নতুন রেশন ব্যবস্থায় ঠিকভাবে আবেদন না করলে আর বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্যে চাল, গম পাওয়া যাবে না। খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, স্মার্ট রেশন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে পুরোনো সাধারণ রেশন কার্ড দিয়ে আর কোনওভাবে বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত রেশন পাওয়া যাবে না। তবে নতুন রেশন ব্যবস্থায় কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে রেশন ডিলারদের। 

সার্ভারে সমস্যা শুরু 

সার্ভার ও ব্যাকএন্ডের প্রযুক্তিগত সমস্যায় গত বুধ ও বৃহস্পতিবার থেকে ‘স্মার্ট পিডিএস’ ব্যবস্থা কার্যত অচল বলে অভিযোগ রেশন ডিলারদের। ফলে রেশন প্রাপ্য থাকা সত্ত্বেও বহু উপভোক্তাকে খাদ্যশস্য দেওয়া যাচ্ছে না। সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবিতে খাদ্যসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে চিঠি দিয়েছে ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন’। এই বিষয়ে সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর অভিযোগ, সার্ভার ও সিস্টেমের ত্রুটির কারণে লেনদেন সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। এর ফলে উপভোক্তাদের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন ডিলাররা, যদিও সমস্যার জন্য তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই।

চিঠিতে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প নিয়েও সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। ‘স্মার্ট পিডিএস’ কাজ না করায় ক্লাস্টারে গিয়ে রেশন বিতরণ করেও লেনদেন সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ডিজিটাল চালান তৈরি না হওয়ায় ই-পিওএসে নতুন খাদ্যশস্যের মজুত গ্রহণেও সমস্যা হচ্ছে। এহেন অবস্থায়, দ্রুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি মেরামতের পাশাপাশি ডিলারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তাঁদের আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানি থেকে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে সংগঠন।