সাফল্য যে এভাবেও আসে তা প্রমাণ করে দিলেন সুরজ সাইনি। সুরজ সাইনি...হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে। সংসার চালাতে রং মিস্ত্রির কাজ করতে অবধি দ্বিধা করেনি সে। কিন্তু আজ সেই মানুষটি NEET পরীক্ষায় পাশ করে সকলকে চমকে দিয়েছে। কেউ হয়তো ভাবতেও পারেনি যে পরীক্ষায় সুরজ এত ভালো ফল করবে। রাজস্থানের বুন্দি জেলার বাসিন্দা সুরজ সাইনি নিট পরীক্ষায় ৫৮৩ নম্বর পেয়েছেন। তাঁর সংগ্রামের গল্প আপনারও চোখে জল এনে দিতে যথেষ্ট। 

রঙ মিস্ত্রির কাজ করেও NEET-এ নজর কাড়া সাফল্য সুরজের 

সুরজের গল্প লক্ষ লক্ষ মেডিকেল প্রত্যাশীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। আর্থিক সংকটের কারণে ছুটির দিনগুলোতে রঙ মিস্ত্রির কাজ করে কাটানো সুরজ ২০২৬-এর নিট পরীক্ষায় ৫৮৩ নম্বর পেয়ে সকলকে অবাক করে দিয়েছে। এখন সে মেডিকেল কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে MBBS আসন পাওয়ার আশা করছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার আগে পর্যন্ত সুরজ জানতেনই না যে নিটের মতো কোনো পরীক্ষা আদৌ আছে। 

আরও পড়ুনঃ জুলাই থেকে লাগু, DA বৃদ্ধি করল মোদী সরকার
 

বুন্দি জেলার একটি সাধারণ হিন্দি মাধ্যম সরকারি স্কুলে পড়ুয়া সুরজ সাইনি দশম শ্রেণিতে ৮৭ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৮৫ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। সুরজ জানান যে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল বোর্ড পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া। তাঁর মাসিই তাঁকে প্রথম নিট (NEET) পরীক্ষার কথা বলেন। এরপর তিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবেদন করেন এবং প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় বসেন। তবে সেই সময়ে সে পাশ করতে পারে না। সুরজ সবাইকে অবাক করে জানায় যে, কোনো বিশেষ প্রস্তুতি ছাড়াই এই প্রথমবার সে পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষা শেষে তার মনে হয়েছিল প্রশ্নপত্রটি সহজ ছিল, কিন্তু পরে সে বুঝতে পারে যে সমস্যাটা প্রশ্নপত্রে ছিল না, বরং তার প্রস্তুতিতেই ছিল। এরপর সে বাড়িতে নিজে নিজে পড়াশোনা শুরু করে এবং পরে কোটার অ্যালেন কেরিয়ার ইনস্টিটিউটের বিনামূল্যের কোচিং প্রোগ্রামে ভর্তি হয়, যেখানে সে বিনামূল্যে কোচিং ও থাকার সুবিধা পায়।

সুরজের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং তার মা ঘিসি বাই একজন কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। পড়াশোনার সময় সুরজ তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য ছুটির দিন ও অবসরে কাছের গ্রামগুলোতে বাড়িঘর রঙ করত। সে জানায়, অন্যদের দেখে দেখে সে এই কাজটি শিখেছে এবং ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আর্থিক সংকটের কারণে সুরজের ছোট বোন গরিমাকে অষ্টম শ্রেণির পর স্কুল ছাড়তে হয়েছিল এবং সে তার মায়ের সাথে মাঠে কাজ শুরু করে। এখন সুরজ চায় তার বোন আবার পড়াশোনা শুরু করুক। সে জানিয়েছে যে এ বছর সে তাকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করাবে এবং সম্ভব হলে কোটার একটি স্কুলে পাঠাবে। সুরজ আরও জানায় যে বর্তমানে সে তাকে ব্যক্তিগতভাবে গণিত ও অন্যান্য বিষয় পড়াচ্ছে।

সাফল্যের মূল মন্ত্র কী সুরজের কাছে? 

সুরজের মতে, কোনো পড়ুয়া যদি ডাক্তার হতে চায়, তবে তাদের একাদশ শ্রেণি থেকেই নিট (NEET)-এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করা উচিত। তার বিশ্বাস, দেরিতে শুরু করলে অতিরিক্ত কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়।তিনি ছাত্রছাত্রীদের NCERT পাঠ্যবই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে জীববিজ্ঞানের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, এনসিইআরটি পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করার পরামর্শ দিয়েছে সুরজ।