মহার্ঘ্য ভাতা ইস্যুতে যখন বাংলা উত্তাল, তখন এবার নতুন নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মূলত এই নির্দেশিকা পদোন্নতি (Promotion) সম্পর্কিত। এবার সহজে পদোন্নতি লাভ হবে না। যাদের উচ্চ বেতন স্তরে পদোন্নতি হওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে এবার থেকে বিশেষ নিয়ম লাগু হবে। নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, আগামী দিন থেকে পদোন্নতির অনুমোদন শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকেই দেওয়া হবে।
পদোন্নতি খেতে নতুন নিয়ম লাগু নবান্নের
পার্সোনাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (P&AR) দফতর একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে সমস্ত সরকারি দফতরকে জানিয়েছে, ২০১৯ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী লেভেল ২২ বা তার ঊর্ধ্বের সমস্ত পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দফতর থেকেই পদোন্নতির ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। অর্থাৎ, উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় এখন থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক সরকারি কর্মচারী।
৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিটি সরকারি দফতরকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে—সমস্ত পদের তালিকা, প্রতিটি পদের সর্বশেষ পদোন্নতির তারিখ, সেই পদোন্নতির ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না। এই রিপোর্ট পার্সোনাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দফতরে জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেই রাজ্য সরকার বদলির নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা আর নিজেদের জেলায় বদলি হতে পারবেন না। এবার পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামোয় আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এদিকে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর এখন সপ্তম বেতন কমিশনের দিকে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নতুন বেতন কমিশনে দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ, বেতন বৃদ্ধি এবং একাধিক অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

