সহেলি মিত্র, কলকাতা: আবারও একবার রেল যাত্রীদের বড়সড় ঝটকা দিল রেল। আপনিও যদি আগামী দিনগুলিতে যদি আপনি ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আজকের এই খবরটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় রেল বিহারের মোকামার কাছে গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত নতুন 'ডাবল-লাইন' রেলসেতুটিকে মূল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করার কাজ হাতে নিয়েছে। এই কাজের জন্য হাওড়া সহ বিভিন্ন রুটে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস অবধি কয়েকশো ট্রেন বাতিল (Train Cancelled) থাকবে। বাতিল থাকবে ৩০০-রও বেশি ট্রেন বলে খবর।
৩০০রও বেশি ট্রেন বাতিল করল রেল
রেল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে ৪ঠা অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনে মোট ৮৪৫টি ট্রেন চলাচল প্রভাবিত হবে। এর মধ্যে, ৩৩৮টি ট্রেন সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে, এবং ৩৮৪টি ট্রেনের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়াও, ৬৭টি ট্রেন পরিবর্তিত স্টেশন থেকে ছাড়বে এবং ৫৬টি ট্রেনকে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে অর্থাৎ যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হবে। মোট প্রভাবিত পরিষেবাগুলোর মধ্যে ৩৩৮টি ট্রেন বাতিল করা হবে, ৩৮৪টি ট্রেনের পথ পরিবর্তন করা হবে, ৬৭টি ট্রেনকে গন্তব্যের আগেই যাত্রা শুরু করানো হবে এবং ৫৬টি ট্রেনকে গন্তব্যের আগেই শেষ করা হবে, ফলে সব মিলিয়ে ৮৪৫টি ট্রেন পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে বেশি বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে ৩ অক্টোবর, যেদিন ৩৬টি ট্রেন বাতিল হওয়ার কথা রয়েছে। এই মেগা ব্লকের কারণে প্রভাবিত ট্রেনগুলোর মধ্যে কলকাতা-জয়নগর এক্সপ্রেস, আজমের-ভাগলপুর এক্সপ্রেস এবং গোরখপুর-রাঁচি এক্সপ্রেস সহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দূরপাল্লার পরিষেবা রয়েছে।
পূর্ব মধ্য রেলওয়ে থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৯ সালে নির্মিত মোকামার 'রাজেন্দ্র সেতু' বর্তমানে একটি এক-লেনের রেলসেতু। এর ফলে এই রুটে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়। এই ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং ট্রেনের গতি বাড়ানোর জন্য নতুন সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার কাজ চলছেন। ২০১৫-১৬ সালের রেল বাজেটে প্রায় ১,৪৯১.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই দ্বি-লেনের সেতুটি অনুমোদন করা হয়েছিল। এই সেতুটি সম্পূর্ণরূপে চালু হয়ে গেলে, গুরুত্বপূর্ণ দিল্লি-পাটনা-হাওড়া রেলপথে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং ট্রেন চলাচলে সহায়তা করবে।
বিশাল প্রভাবিত হবেন যাত্রীরা
এদিকে এই ট্রেন বাতিলের কারণে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশ এবং ওড়িশা থেকে যাতায়াতকারী লক্ষ লক্ষ যাত্রী সরাসরি প্রভাবিত হবেন। বিশেষ করে হাওড়া, পাটনা, কলকাতা এবং নয়াদিল্লির মতো প্রধান শহরগুলিকে সংযোগকারী রুটগুলিতে যাত্রীদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতে পারে। রেল প্রশাসন যাত্রীদের কাছে আবেদন করেছে যে, ২১শে সেপ্টেম্বর থেকে ৪ঠা অক্টোবর পর্যন্ত যাত্রার আগে তাঁরা যেন রেলওয়ের হেল্পলাইন বা অ্যাপে তাঁদের ট্রেনের সঠিক অবস্থা জেনে নেন। রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, ভবিষ্যতে পূর্ব ভারতে রেল পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে এবং যাত্রীদের যাত্রা দ্রুততর করার জন্য এই সাময়িক অসুবিধা অপরিহার্য।

