ফের একবার ব্যাঙ্ক হরতালের (Bank Strike) ডাক দিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা। আর এই হরতালের প্রভাব ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের ওপর ব্যাপকভাবে পড়বে। এক টানা ৩ থেকে ৪ দিন বন্ধ থাকতে পারে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক কোটি মানুষ। কবে থেকে শুরু হবে এই হরতাল? চলুন জেনে নেবেন। 

ব্যাঙ্ক হরতালের ডাক দিলেন ব্যাঙ্ক কর্মীরা 

জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্ক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের প্রধান ইউনিয়নগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস (UFBU) দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। ৯টি প্রধান ব্যাঙ্ক কর্মচারী ইউনিয়নের একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম, UFBU, সরকারের নেতিবাচক অবস্থানের বিরুদ্ধে ধর্মঘটের তারিখ নির্ধারণ করেছে। তাদের দাবিগুলো হলো পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহ এবং সরকারের সংশোধিত পারফরম্যান্স-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম প্রত্যাহার। 

কোন কোন দিন ধর্মঘট পালন হবে? 

ইউনিয়নগুলো প্রথমে ২০২৬ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর একদিনের দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ঘোষণা করেছে। যেহেতু ১১ই সেপ্টেম্বর একটি শুক্রবার, তাই দুটি শনি ও রবিবারের ছুটিসহ টানা তিন থেকে চার দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু এটি ব্যাংকের অর্ধ-বার্ষিক বন্ধের সময়, তাই এই ধর্মঘট ব্যাংকের কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। সবশেষে, যদি দাবি পূরণ না করা হয়, তবে ২০২৬ সালের ২৬শে অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

৫ দিনের ব্যাঙ্কিং পরিষেবা চালু হতে দেরির পাশাপাশি, তারা সরকারের নতুন পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই) প্রকল্প নিয়েও ক্ষুব্ধ। এই প্রকল্পের অধীনে, স্কেল ৪ এবং তার উপরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি মোটা অঙ্কের বোনাস (ইনসেনটিভ) দেওয়া হয়, অথচ কেরানি এবং জুনিয়র কর্মচারীরা সামান্য ইনসেনটিভ পান, যা বৈষম্যমূলক এবং অন্যায্য। ইউএফবিইউ-এর মতে, যেখানে বেশিরভাগ কর্মচারী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মূল বেতন এবং মহার্ঘ ভাতার সমপরিমাণ ইনসেনটিভ পাওয়ার অধিকারী, সেখানে সিনিয়র কর্মকর্তারা ৩৬৫ দিনের মূল বেতন পর্যন্ত ইনসেনটিভ পান। বিষয়টি বর্তমানে প্রধান শ্রম কমিশনারের কাছে মধ্যস্থতার জন্য বিচারাধীন রয়েছে এবং দিল্লি হাইকোর্টেও আইনি কার্যক্রম চলছে। এখন দেখার সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয় কিনা।