সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই ভারতে উড়তে দেখা যাবে এয়ার ট্যাক্সি (Air Taxi)-কে। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। তোড়জোড় জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, দিল্লির নতুন মাস্টার প্ল্যান ২০৪৭-এ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে 'এয়ার ট্যাক্সি' এবং 'এয়ার পড' গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে দিল্লিতে শুধু মেট্রো, এক্সপ্রেসওয়ে এবং র‍্যাপিড রেলই একমাত্র বিকল্প থাকবে না, বরং 'এয়ার ট্যাক্সি' এবং 'এয়ার পড'-ও গণপরিবহনের অংশ হবে।

শীঘ্রই ভারতে উড়বে Air Taxi? 

আগামী দুই দশকের মধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং বিধিমালা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ১২ই আগস্ট দিল্লি মাস্টার প্ল্যান ২০৪৭ অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে দিল্লির আকাশে এয়ার ট্যাক্সি চালুর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত যানবাহনের উপর মানুষের নির্ভরতা কমানো এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে যানজটমুক্ত ভ্রমণ নিশ্চিত করা। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঘোষিত দিল্লি মাস্টার প্ল্যান (এমপিডি)-২০৪৭-এ যমুনা, সাহিবি নদী এবং অন্যান্য খালের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন চালু করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় প্রধান রেল স্টেশনগুলোর পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে রেল স্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (আইএসবিটি), বাস টার্মিনাল, মেট্রো এবং আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা (আরআরটিএস) স্টেশনগুলোর মধ্যে যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন হয়।

যদিও এয়ার ট্যাক্সির নকশা এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং এতে কোনো মূল্য বা বাজেট নির্দিষ্ট করা নেই, তবে এটা নিশ্চিত যে এটি আকাশে বিমানের চেয়ে সস্তা হলেও সড়কপথে চলাচলকারী ট্যাক্সির চেয়ে ব্যয়বহুল হবে। এই পরিকল্পনায় যমুনা নদী, সাহিবি নালা এবং খাল বরাবর জলপথ তৈরির কথাও বলা হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে নৌকা বা স্টিমার চলাচল করতে পারবে।

নতুন রেল স্টেশন নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে

ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ সামাল দিতে নতুন রেল স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে, দিল্লি পাঁচটি প্রধান রেল স্টেশনের মাধ্যমে দেশের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত: নিউ দিল্লি, ওল্ড দিল্লি, হজরত নিজামুদ্দিন, আনন্দ বিহার টার্মিনাল এবং সরাই রোহিলা। এই মহাপরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক ও পার্কিং ব্যবস্থাপনার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে।

এমনকি সরকারের নতুন পরিকল্পনায় হাঁটা ও সাইকেল চালানোকে উৎসাহিত করা, নতুন নগরায়িত এলাকাগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করা, যানজট কমানো এবং অব্যবহৃত পরিবহন সম্পদগুলোর পুনঃব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো মোটরচালিত যাত্রায় গণপরিবহণ এবং মধ্যবর্তী গণপরিবহণের অংশ বৃদ্ধি করা এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমানো।