রাখি উৎসবকে কেন্দ্র করে যখন অনেকেই ট্রেনের টিকিট কাটছেন, তখন আচমকাই বড় সিদ্ধান্ত নিল রেল (Indian Railways)। অন্যের টিকিটে ভ্রমণ করলেই এবার গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। অনেকেই আছেন উৎসবের সময়ে ট্রেনের টিকিট পাননা, যার ফলে রেলের নিয়ম লঙ্ঘন করে বসেন। এরকম উদাহরণ ভুরি ভুরি আছে। তবে এবারে তা আর হবে না। কারণ এখন রেলের নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেনের কনফার্ম টিকিট পাওয়ার জন্য অন্যের নামে টিকিট বুক করে ভ্রমণ করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা হয়। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ছয় মাসের জেল অবধি হতে পারে। 

অন্যের টিকিটে ভ্রমণ করলেই হবে ৬ মাসের জেল! 

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কারো নামে বুক করা টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এমনটা করতে গিয়ে ধরা পড়লে, রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যাত্রীদের সর্বদা নিজের নামে ইস্যু করা বৈধ টিকিট নিয়েই ভ্রমণ করতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো যাত্রী অন্যের টিকিটে ভ্রমণ করতে গিয়ে ধরা পড়লে, প্রথমে তার টিকিটটি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এরপর, ট্রেনের যাত্রা শুরুর স্থান থেকে শুরু করে পুরো যাত্রাপথের সম্পূর্ণ ভাড়া যাত্রীর কাছ থেকে আদায় করা হবে। এছাড়াও, যাত্রীকে অতিরিক্ত কমপক্ষে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।

রেলের নিয়ম জানেন? 

যদি কোনো যাত্রী ধরা পড়ার পর ভাড়া বা জরিমানা দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আদালতের মাধ্যমে তা আদায় করা যেতে পারে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থতার ফলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই হতে পারে। যদি কোনো কারণে আপনি ভ্রমণ করতে না পারেন এবং আপনার পরিবর্তে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাঠাতে চান, তবে রেলওয়ে একটি বৈধ ও সহজ বিকল্প প্রদান করে।

রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, আপনি কোনো জরিমানা ছাড়াই আপনার নিশ্চিত টিকিটটি পরিবারের কোনো সদস্যকে (যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী বা স্ত্রী অথবা সন্তান) হস্তান্তর করতে পারেন। এর জন্য, ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে আপনাকে নিকটতম রেল স্টেশনের প্রধান সংরক্ষণ সুপারভাইজারের কাছে যেতে হবে। আপনাকে আপনার পরিচয়পত্র এবং সেই আত্মীয়ের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে, যার নামে আপনি টিকিটটি ট্রান্সফার করতে চান। ফলে আপনারও যদি অন্যের নামে ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে এখন থেকেই সাবধান হয়ে যান।