আপনিও কি প্রতিদিন ডিম (Egg) খেতে ভালোবাসেন? তাহলে আপনার জন্য রইল জরুরি খবর। যত সময় এগোচ্ছে দেশে ততই ডিমের দাম (Egg Price) বাড়ছে। জানলে আঁতকে উঠবেন, অনেক জায়গায় এখন একটি ডিম ৮.৫ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সবচেয়ে বড় কারণ পোল্ট্রি ফিডের দাম বৃদ্ধি। তবে, শিল্পের আশা আছে যে জুলাইয়ের শেষের দিকে দামে কিছুটা সুখবর আসতে পারে।

হু হু করে দাম বাড়ছে ডিমের 

পোল্ট্রি কোম্পানিগুলো বলছে মুরগির খাবারের জন্য ব্যবহৃত ভুট্টা, সয়াবিন  এবং বিদেশ থেকে আসা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিড উপাদান অনেক ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। এর একটি বড় কারণ পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতও, যার কারণে আমদানি এবং সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। এদিকে পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে, সে সম্পর্কে এখনই কিছু জোর দিয়ে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কয়েকজনের মতে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মাসের শেষে দাম কিছুটা কমলেও কমতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ এবার ট্রেনে সফর হবে সস্তার, টিকিটের ওপর ছাড়ের ঘোষণা রেলের
 

এদিকে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের। মাছ মাংস থেকে শুরু করে সবজি, কিনতে গেলেই যেন ছ্যাঁকা খেতে হচ্ছে আমজনতাকে। সেক্ষেত্রে পড়ে রইল ডিম। কিন্তু এখন সেটাও মহার্ঘ্য। ফলে সকলেরই কমবেশি হেঁশেলের বাজেট বিগড়ে গিয়েছে। এখন দুটো ডিম কিনতে গিয়েও দশবার ভাবতে হচ্ছে। 

উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়িক মহলেও 

ডিমের দামের এই ব্যাপক বৃদ্ধি নিয়ে ভোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। মূলত শীতকালেই ডিমের দাম বাড়ে, কিন্তু বর্ষাকালে ডিমের এরকম দাম বৃদ্ধি, অনেককেই অবাক করেছে। বেশ কিছু পোল্ট্রি খামারিরা বলছেন যে, পোল্ট্রি খাতে উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধিই ডিমের দাম এই পর্যায়ে বাড়ার প্রধান কারণ। মুরগির প্রধান খাদ্য সয়াবিনের দাম গত কয়েক মাসে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮ টাকা হয়েছে, অন্যদিকে ভুট্টার দামও প্রতি কুইন্টাল ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮ টাকা হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা এখনো পাননি? বিরাট আপডেট দিল রাজ্য সরকার
 

একটি হিসাব অনুযায়ী, এক লক্ষ মুরগি থাকা একটি খামারকে শুধুমাত্র খাদ্যের খরচের জন্যই প্রতিদিন এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হচ্ছে। এছাড়াও, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে হাজার হাজার মুরগির মৃত্যু এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি (ডিজেলের দাম) বাজারে ডিমের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে মূলত সরবরাহ সংকট, যার ফলে দাম বেড়ে গেছে।