অবশেষে কি তাহলে ট্রেনের ভাড়া (Train Fare) কমবে? তেমনই ইঙ্গিত মিলল এবার। খোদ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) এই বিষয়ে জল্পনা উস্কে দিয়েছেন। রাজ্যসভায় একটি প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান যে, রেল ১.৯৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেছে। এই অর্থ গত পাঁচ বছরে পরিশোধ করা হয়েছে। এই ঋণের সুদও পরিশোধ করা হয়েছে এবং কোনো নতুন ঋণ নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রেল ট্রেনের চড়া ভাড়া অবশেষে কমাতে চলেছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

ট্রেনের ভাড়া কমাতে চলেছে রেল?

জানা গিয়েছে, রেল গত পাঁচ বছরে নতুন ঋণ নেওয়া থেকেও বিরত থেকেছে, কারণ রেলের ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ ছিল এবং তা পরিশোধ করার পরেই নতুন ঋণ নেওয়া সম্ভব। এখন যেহেতু রেল তার ঋণ পরিশোধ করে ফেলেছে, এর ফলে প্রাপ্ত আয় থেকে যাত্রীরা উপকৃত হতে পারবেন। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার রেল উন্নয়ন প্রকল্পে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে, সরকার রেল পরিষেবার উন্নতির জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং রেলকে ডিজিটাল করার পদক্ষেপ নিয়েছে। 

বড় দাবি রেলমমন্ত্রীর 

বিগত কয়েক বছরে রেলের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট ঋণ পরিশোধে সাহায্য করার পাশাপাশি রেল পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ, ট্রেনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান, ট্রেন পরিষেবা সম্প্রসারণ, নতুন ট্রেন নির্মাণ এবং মেট্রো স্টেশন তৈরিতেও সহায়তা করেছে। এর ফলে রেলযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, আগে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রেলকে ঋণ নিতে হতো। তবে মোদী সরকারের আমলে ঋণের কোনো প্রয়োজন হয়নি। সরকার ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করেছিল এবং নতুন ট্রেন দেওয়ার পাশাপাশি নতুন রেল পরিষেবাও প্রদান করেছে। ২০২১-২২ সাল থেকে রেল শুধু সুদ বাবদই প্রায় ৯৩,০০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় রেলকে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের কাছ থেকে ৭৯,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে হয়েছিল। পূর্বে নেওয়া কিছু ঋণের সাথে এই অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে।