ফের একবার কি বাড়তে চলেছে ট্রেনের ভাড়া? আশঙ্কা তো তেমনই করা হচ্ছে। আচমকা কেন এরকম আশঙ্কা? আসলে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করে সকলকে চমকে দিয়েছে রেল সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। এই বিষয়ে গত সোমবার একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে বিজেপি সাংসদ সিএম রমেশের নেতৃত্বাধীন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এরপর থেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাধারণ মানুষ। বাড়তি এই মুদ্রাস্ফীতির সময়ে যদি ট্রেনের ভাড়াও বাড়ে তাহলে সমস্যার শেষ থাকবে না। সত্যিই কি ভাড়া বাড়তে চলেছে আগামী দিনে? 

ফের ভাড়া বাড়বে ট্রেনের? 

কমিটির দাবি অনুযায়ী, রেলের যাত্রী রাজস্ব ও পরিচালনগত খরচের মধ্যে ব্যবধান কমানোর প্রয়োজন রয়েছে। আর সেই কথা তুলে ধরেছে রেল সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন চিহ্নিত রেলপথে ট্রেনের প্রিমিয়াম পরিষেবা চালু করা এবং ডিমান্ড-বেসড ফেয়ার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা কার্যকর করার উপরও জোর দিয়েছে কমিটি। দেশে বর্তমানে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস বন্দে ভারত স্লিপার, তেজাস এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম এবং হাইস্পিড ট্রেন চলছে। আর এই ট্রেনগুলি চালাতে রেলের বিপুল খরচ যে হচ্ছে সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এহেন অবস্থায় কমিটির দাবি, ভাড়া বৃদ্ধি করা হোক। 
 

২০২৫ সালে বেড়েছিল রেলের ভাড়া 

উল্লেখ্য, রেলের সর্বশেষ যাত্রী ভাড়া পরিবর্তিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর। তার পর ফের ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে। যদিও সংসদীয় কমিটি ভাড়া ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কথা বলেছে, একই সঙ্গে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের উপর যাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সেই বিষয়টিও মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

সোমবার সংসদে পেশ করা কমিটির রিপোর্টে মূলত রেলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রেলের বাজেট এস্টিমেট ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সংশোধিত হিসাবে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকায়। একইভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩ হাজার ৪১ কোটি টাকার বাজেট এস্টিমেট সংশোধনের পর নেমে আসে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়। ১০০ টাকা আয় করতে রেলকে কত টাকা খরচ করতে হচ্ছে, তারই হিসাব এই সূচকে ধরা পড়ে। কমিটির পর্যবেক্ষণ, রেলের এই খরচের পরিমাণ এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি।

কমিটির মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে রেলকে বহু ক্ষেত্রেই এমন যাত্রী পরিষেবা দিতে হয়, যা সরাসরি আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। সাধারণ যাত্রীদের জন্য গড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভর্তুকি বহন করে রেল। দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখার স্বার্থে লাভজনক না হলেও বহু রুটে ট্রেন চালাতে হয়। ফলে রেলের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।