ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানি, মেটা-কে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিল ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও ডিলিট হওয়ার ঘটনায় মার্ক জুকারবারর্গের কোম্পানিকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। যদিও, কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি বলেই খবর। এখন এ প্রশ্নও উঠছে, ভারতে কি Facebook, Instagram বন্ধ হয়ে যাবে?

ভারতে কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে Facebook, Instagram ?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও, যা অল্প সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, আচমকা ডিলিট করে দেয় ফেসবুক। হঠাৎ কেন সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই ভিডিও? সেটা জানতে চেয়েই কোম্পানির উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছে সরকার। মেটা অবশ্য ইতিপূর্বে দাবি করেছিল প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। সরকারের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন ব্যক্তিত্বের ভিডিও যদি ভুলবশত ফেসবুক থেকে ডিলিট হয়ে যায়, তাহলে সেই প্রযুক্তি কতটা নির্ভরযোগ্য বা আদৌ নির্ভর করার মতো যোগ্য কি না। 

বুধবার, অগাষ্ট ৫-এর খবর অনুযায়ী, মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ভারতীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। আগামী ৩ দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কড়া নির্দেশ বা আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জুকারবার্গ লিখিত আকারে ক্ষমা প্রকাশ না করলে তাঁর এবং তাঁর সংস্থায় মেটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কেন্দ্রীয় সরকারকে এমনটা জানিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। 

কী বলছে সরকার?

একই সঙ্গে এও বলা হয়েছে, কোম্পানির তরফে ক্ষমা না চাওয়া হলে ফেসবুক ইন্সটাগ্রামের ওপর থেকে 'সেফ হারবার' তুলে নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। কি এই 'সেফ হারবার' ? সেফ হারবার হল ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর এক আইন, যার আওতায় রয়েছে ফেসবুক ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। এই আইনের সুরক্ষা সরিয়ে নেওয়া হলে নেট ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা যে কোনো অনভিপ্রেত পোস্ট বা কনটেন্টের জন্য মেটা কর্তৃপক্ষ ও তার শীর্ষ কর্তারা সরাসরি ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে পারেন। আগামী ৩ দিনের মধ্যে জুকারবার্গ বা তাঁর কোম্পানির পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া নয় এখন সেদিকেই চোখ থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।