এবার কি তাহলে LPG -র দিন শেষ হতে চলেছে? সরকারের নতুন পদক্ষেপ নিয়ে এখন সকলের মনে এই প্রশ্নই জাগছে। দেশজুড়ে পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণ (E20) চালু করার পর, কেন্দ্রীয় সরকার এখন ঘরোয়া রান্নার কাজে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ইথানলকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এমন একটি নীতি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে এলপিজির পাশাপাশি ইথানল-ভিত্তিক রান্নার জ্বালানিও জনসাধারণের জন্য উপলব্ধ করবে।
LPG- র দিন শেষ হতে চলেছে?
সূত্রের খবর, সরকারের এই নতুন নীতি ইথানলের প্রসারের জন্য ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার ওপর মনোযোগ দেবে। এই নীতিটি এলপিজির পাশাপাশি ঘরোয়া রান্নার কাজে ইথানলের ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করবে। নীতিটি সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এই প্রসঙ্গে মন্ত্রক এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেনি। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে ২ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট-এর 'ইন্ডিয়াজ ক্লিন কুকিং শিফট' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুসারে, ই-কুকিং এবং বায়োগ্যাসে স্থানান্তরের মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে ভারত এলপিজি ভর্তুকিতে ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি (২৪ বিলিয়ন ডলার) সাশ্রয় করতে পারে।
ইথানলের ওপর কেন এত জোর দেওয়া হচ্ছে?
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সরকার ইথানলের ব্যবহারের ওপর এত জোর দিচ্ছে কেন? আসলে ইথানল একটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, যা আখ, শস্যদানা এবং অন্যান্য চিনিযুক্ত ফসল গেজানো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের অনুরোধে ইথানল চালিত গ্যাস পরীক্ষা করা হচ্ছে। রান্নার কাজে ইথানল ব্যবহার করলে এলপিজির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে এবং জ্বালানি আমদানির খরচও অনেকাংশ-এ হ্রাস পাবে।

