সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দামের মাঝেই ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য বিরাট স্বস্তি দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। পেট্রোল এবং ডিজেলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমানোর ঘোষণা করা হল ভারত সরকারের তরফ থেকে (Petrol And Diesel Price)। আর পাশাপাশি জানানো হয়েছে, এখন থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর দেশে জ্বালানি তেলের দাম আবারও পর্যালোচনা করবে কেন্দ্র। তাহলে কি দাম বাড়বে নাকি কমবে?
শুল্ক হ্রাসের পর আবার নতুন অংক
কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পেট্রোলের উপর কার্যকর থাকা শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে ৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে সেই শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু অন্তঃ শুল্ক ছাড়া অন্যান্য সেস মিলিয়ে বর্তমানে করের কাঠামো দাঁড়াচ্ছে পেট্রোলের ক্ষেত্রে মোট ১১.৯ টাকা, যার মধ্যে ১.৪০ টাকা প্রাথমিক শুল্ক, ৩ টাকা বিশেষ অতিরিক্ত শুল্ক, ২.৫০ টাকা কৃষি পরিকাঠামো এবং ৫ টাকা সড়ক ও পরিকাঠামো সেস। এদিকে ডিজেলের ক্ষেত্রে মোট শুল্ক দাড়াচ্ছে ৭.৮ টাকা। সেক্ষেত্রে ১.৮০ টাকা প্রাথমিক শুল্ক, ৪ টাকা কৃষি পরিকাঠামো সেস এবং ২ টাকা সড়ক এবং পরিকাঠামো সেস।
তবে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইন্ডিরেক্ট ট্যাক্সেস এন্ড কাস্টমসের চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী জানিয়ে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং বিমানের জ্বালানির দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। এই অস্থির পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য এবং রফতানি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রতি ১৫ দিন অন্তর দাম এবং শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের পকেটে কি টান পড়বে?
প্রসঙ্গত, শুল্ক কমানোর ঘোষণা হলেও এর সরাসরি সুফল যে সাধারণ মানুষ পাবে এরকমটা নেই বললেই চলে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের বাজারে এতদিন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়েনি। যার ফলে তেল বিপনণকারী সংস্থাগুলি বড় ক্ষতির মুখে পড়ছিল। আর এই শুল্ক হ্রাসের ফলে সরকার সেই ক্ষতির বোঝা নিজের কাঁধে টেনে নিয়েছে। এমনকি এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব কমবে। কিন্তু সংস্থাগুলি দেউলিয়া হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না।











